আজ ২৯শে চৈত্র, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ, ১২ই এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

অবৈধ দখল-দূষণে বড়াল নদী এখন মরা খাল

মোঃ কায়সার আহম্মেদ, পাবনা

আষাঢ় ও শ্রাবণ এই দুই মাস বর্ষাকাল। অথচ আষাঢ় মাস শেষ হয়ে গেলেও বড়াল নদীতে দেখা মিলছে না পানির।

দখল-দুষণ আর অপরিকল্পিত বাঁধ নির্মাণ করার ফলে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে যার কারণে দিনে দিনে অস্তিত্ব সংকটে পড়ছে বড়াল।

বর্তমানে নদীর বুকে পলি জমে উঁচু হচ্ছে। দখল আর দুষণে চেপে যাচ্ছে নদীর দুই পাড় । ফলে একসময়ের খরস্রোতা বড়াল নদী আজ শুধুই স্মৃতি।

স্থানীয়রা জানান, প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী ব্যবসাকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত চাটমোহর। মুঘল আমল থেকেই বড়াল নদী ছিল চাটমোহরে ব্যবসা-বাণিজ্যের পণ্য আনা-নেওয়ার অন্যতম নৌপথ। এই নদীপথ দিয়েই আগে ওপার বাংলার সঙ্গে চাটমোহরসহ চলনবিল অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা ছিল। নদীতীরে ব্যবসা
কেন্দ্র গড়ে ওঠায় বড়াল নদী দিয়ে বড় বড় পাল তোলা নৌকা ভাসিয়ে দূর-দূরান্তের ব্যবসায়ীরা আসতেন এই চাটমোহরে।

একসময় নদীর দু’পাশে গড়ে ওঠা বিশাল জনপদের কৃষিকাজে ব্যবহার করা হতো নদীর পানি। আগে বড়ালের তীরবর্তী গ্রামের জমিতে ধান, পাট, আখ, রসুন ও পেঁয়াজের ভালো ফলন হতো। বড়ালে পানি না থাকায় ব্যহত হচ্ছে কৃষিকাজ আবাদ করতে অনেকটাই বেগ পেতে হচ্ছে কৃষককে। জমিতে পলি না পরায় জমির উর্বরতা দিন দিন কমে আসছে। এছাড়াও এখন জমিতে সেচ দেওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে।

প্রমত্তা পদ্মা নদীর শাখা নদী হিসেবে বড়াল নদীর উৎপত্তি হয়ে রাজশাহীর বাঘা, চারঘাট; নাটোরের বাগাতিপাড়া, বড়াইগ্রাম; পাবনার চাটমোহর, ভাঙ্গুড়া ও ফরিদপুর উপজেলার মধ্যে দিয়ে বাঘাবাড়ি হয়ে হুড়া সাগরের বুকে মিশে নাকালিয়ায় যমুনায় পড়েছে।

একসময় নৌপথে যোগাযোগের সুবিধা থাকায় চারঘাট বাজার, চারঘাট উপজেলা পরিষদ, চারঘাট মডেল থানা, চারঘাট পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়, চারঘাট এমএ হাদী কলেজ, বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমি, আড়ানী বাজার, রুস্তমপুর পশুহাট, পাকা বাজার, জামনগর বাজার, বাঁশবাড়িয়া বাজার, তমালতলা বাজার, বাগাতিপাড়া থানা, দয়ারামপুর সেনানিবাসসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা গড়ে উঠেছে।

হরিপুর এলাকার আ: হানিফ জানান, দ্রুত সরকারি উদ্যোগ গ্রহণ করে নদী পুনঃখনন না করা হলে বড়াল তার ঐতিহ্য হারাবে। তিনি বলেন, বড়াল নদী রক্ষায় উদ্যোগ গ্রহণ না করলে একসময় বড়ালের রেখা মানচিত্র থেকেই মুছে যাবে।

এবিষয়ে বড়াল রক্ষা আন্দোলন কমিটির কেন্দ্রীয় সদস্য সচিব এস এম মিজানুর রহমান বলেন, বড়াল যেভাবে দখল হয়েছে বা এখনও হচ্ছে, সেটি রোধ করা দরকার। বড়াল নদী আগের মতো বেগমান করতে চারঘাটের সুইচগেট ও আটঘরিয়ার সুইচগেট অপসরণ করতে হবে।

আটঘরিয়া থেকে বনপাড়া পর্যন্ত ১৮ কিলোমিটার দখল উচ্ছেদ করতে হবে। নদী বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ বন্ধ করে দিতে হবে। বর্তমানে অপরিকল্পিতভাবে ব্রীজ নির্মাণ করে রাষ্ট্রের অর্থ নষ্ট করা হচ্ছে। চাটমোহর নতুন বাজারে ১৫৫ ফিট নদীতে ৮০ ফিটের ব্রীজ নির্মাণ করা হচ্ছে। এতে করে ৭৫ ফিট দখলবাজদের দখল করার সুযোগ করে দেয়া হচ্ছে। সেইসাথে বড়াল এখন ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। সকল এলাকার বর্জ্য, ময়লা-আবর্জনা ফেলা হচ্ছে এই ঐতিহ্যবাহী বড়ালে। এবিষয়ে দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহন করা না করা হলে একসময় হারিয়ে যাবে আমাদের ঐতিহ্যবাহী বড়াল নদী।

এ ক্যাটাগরির আরো নিউজ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এ ক্যাটাগরির আরো নিউজ...