আজ ২৯শে চৈত্র, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ, ১২ই এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

আইএমএফের কাছে বাংলাদেশের আনুষ্ঠানিক ঋণের প্রস্তাব

বিশেষ প্রতিনিধিঃ
আইএমএফের কাছে বাংলাদেশ সরকার গত ২৪ জুলাই ৪৫০ কোটি ডলার ঋণ পেতে আনুষ্ঠানিক আবেদন করেছে।

অর্থ সচিব ফাতিমা ইয়াসমিন আইএমএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টালিনা জর্জিভাকে এক চিঠিতে এ ঋণ দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেন।

জানা গেছে বৈদেশিক মুদ্রার মজুদ চাঙ্গা করা,বৈদেশিক লেনদেন পরিস্থিতির উন্নতি এবং মুদ্রা বাজারের স্থিতিশীলতা আনতে সরকার উদ্যোগ নিয়েছে। এছাড়াও
বাজেট সহায়তা হিসেবে এই ঋণ নেওয়া হবে বলে অর্থ বিভাগ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

এক বছর ধরেই আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) থেকে ঋণ নেয়ার পরিকল্পনা করে আসছে সরকার। তারই ধারাবাহিকতায় উভয় পক্ষের মধ্যে আলোচনাও হয়েছে একাধিকবার।হয়েছে। সর্বশেষ আইএমএফের যে মিশন বাংলাদেশ সফর করেছে তাদের সঙ্গেও আলোচনা হয়। আইএমএফের পক্ষ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাওয়ার পরই সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ঋণের আবেদন করা হয়।

এখন আবেদনে দেয়ার পর আইএমএফ এই ঋণের বিষয়ে তাদের একটি কমিটি করবে। ওই কমিটি বাংলাদেশ সফর করবে। সরকারের সংশ্নিষ্ট পক্ষের সঙ্গে ঋণের শর্তসহ অন্যান্য বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে। সবকিছু মিলিয়ে এই ঋণ অনুমোদন হতে আরও চার বা ৫/৬ মাস লেগে যেতে পারে।

সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার মজুত কমে এসেছে। টাকার মান নেমেছে তলানিতে। ব্যাংকগুলোতে এলসি খোলার জন্য প্রতি ডলার ৯৫ থেকে ৯৭ টাকা দরে কিনতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের। কমছে রেমিট্যান্স। গত জুন মাসে আগের বছরের তুলনায় ৫ দশমিক ৩৩ শতাংশ কম রেমিট্যান্স এসেছে। বৈশ্বিক বাজারে পণ্য মূল্য বেড়ে যাওয়ায় বাংলাদেশের আমদানি ব্যয় ব্যাপকভাবে বেড়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী ২০২১-২২ অর্থবছরের ১১ মাসে (জুলাই-মে) ৭৫ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারের আমদানি হয়েছে, যা আগের ২০২০-২১ অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৩৯ শতাংশ বেশি। অন্যদিকে এই সময়ে রপ্তানি হয়েছে ৪৪ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার। এতে বাণিজ্য ঘাটতি ব্যাপকভাবে বেড়ে ৩০ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলারে ঠেকেছে।

এছাড়াও রেমিট্যান্স প্রবাহ আগের তুলনায় কমেছে। সামগ্রিকভাবে লেনদেনের ভারসাম্যে ব্যাপক নেতিবাচক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।

সামগ্রিকভাবে বৈদেশিক লেনদেন, বৈদেশিক মুদ্রার মজুত এবং বিনিময় হার পরিস্থিতি অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে। এ রকম অবস্থায় সরকার বৈদেশিক উৎস থেকে ঋণ নিয়ে নিরাপদ রিজার্ভ নিশ্চিত করতে চাচ্ছে।

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, আইএমএফ এই ঋণ দিতে বেশ কিছু শর্ত দিতে পারে সরকারকে। যার মধ্যে জ্বালানির ওপর থেকে ভর্তুকি তুলে দেওয়া অন্যতম। এ ছাড়া জ্বালানি তেলের বাজারভিত্তিক দাম কার্যকর করা। ব্যাংক ঋণ ও আমানতের সুদ হারে সীমা তুলে দেওয়া। ব্যাংক খাতে সুশাসন বাস্তবায়ন, বৈদেশিক মুদ্রার মজুত হিসাব করার পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনা এবং রাজস্ব সংগ্রহের ভিত্তি বাড়ানোর শর্ত দিতে পারে আইএমএফ।

দেশের বিশেষজ্ঞরা অবশ্য আইএমএফ থেকে ঋণ নিতে সরকার যে উদ্যোগ নিয়েছে, তাকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন।

তাঁরা বলছেন, এতে বৈদেশিক মুদ্রা পরিস্থিতির অস্থিতিশীলতা কমে আসার পাশাপাশি আর্থিক খাতে কিছু মৌলিক সংস্কার উদ্যোগও আসবে।

এর আগেও বাংলাদেশ বিভিন্ন সংকটকালীন সময়ে আইএমএফ থেকে ঋণ নিয়েছে। ১৯৯০ সালে আইএমএফ থেকে প্রথম ঋণ নেয় বাংলাদেশ। তখন সামান্য পরিমাণে ঋণ নেওয়া হয়েছিল। এরপর ২০০৩ সালে দারিদ্র্য বিমোচন ও প্রবৃদ্ধি সুবিধার (প্রভার্টি রিডাকশন অ্যান্ড গ্রোথ ফ্যাসিলিটি) আওতায় বাংলাদেশ ৩০ কোটি ডলার ঋণ নেয়। এরপর ২০১১ সালে টাকার মান দ্রুত অবনতি হলে সরকার এপটেন্ডেড ক্রেডিট ফ্যাসিলিটির আওতায় ১০০ কোটি ডলার ঋণ নিয়ে লেনদেনের ভারসাম্য রক্ষায় ব্যবহার করে। সর্বশেষ করোনার সময়ে র‌্যাপিড ক্রেডিট ফ্যাসিলিটি অ্যান্ড পারচেজ অব র‌্যাপিড ফ্যাইনান্সিং ইনস্ট্রুমেন্ট আওতায় ৭৩ কোটি ডলার ঋণ নিয়েছে সরকার। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাবে ২০২১ সালের জুন শেষে বাংলাদেশের কাছে আইএমএফের ঋণ স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৮৮ কোটি ৯৮ লাখ এসডিআর বা প্রায় ১২০ কোটি ডলার।

এ ক্যাটাগরির আরো নিউজ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এ ক্যাটাগরির আরো নিউজ...