আজ ২৯শে চৈত্র, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ, ১২ই এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যে যাচ্ছে বেলাবরের সুস্বাধু লটকন

আলমগীর পাঠান, বেলাব (নরসিংদী) প্রতিনিধিঃ

দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশের বাজার দখল করছে লটকন। নরসিংদীর বেলাবরের সুস্বাধু এই লটকন এবার ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের বাজারে বিক্রি হচ্ছে নিয়মিতভাবে। ফলে চাষীরাও ঝুকছে দিনদিন লটকন চাষে। নরসিংদীতে লটকন চাষ করে ব্যাপক সাফল্যও পাচ্ছেন চাষিরা। এখানকার মাটি ও আবহাওয়া লটকন চাষে উপযুক্ত হওয়ায় এবং আর্থিক লাভের কারণে চাষিদের মধ্যে লটকন চাষে আগ্রহ বাড়ছে। নরসিংদীর বেলাব পার্শবর্তী রায়পুরা,শিবপুর উপজেলায়ও চাষ হচ্ছে লটজন। এ এলাকার লটকন ফল দেশীয় চাহিদা মিটিয়ে মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপে রপ্তানি হচ্ছে। যা বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।জেলার বেলাব, শিবপুর , মনোহরদী , নরসিংদী সদর, পলাশ , রায়পুরার আংশিক অঞ্চলে আবহাওয়া লটকন চাষে উপযোগী হওয়ায় লটকন ফল ভালো জন্মে। এ এলাকার লটকন ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের চাহিদা মিটিয়ে মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপে রপ্তানী হচ্ছে।
উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মানিক শাহ্ ও ফাতেমা বেগম জানান,এ উপজেলায় ১৮৫ হেক্টর জমিতে লটকন চাষ হচ্ছে। চলতি মওসুমে উপজেলায় প্রায় ৩,৩০০ মেট্রিক টন লটকন উৎপাদন লক্ষমাত্রা ধরা হয়েছে, যার আনুমানিক দাম প্রায় ২ কোটি টাকা। নরসিংদীর উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের সুউচ্চ গৈরিক বা লাল রঙের মাটিতে প্রচুর ক্যালসিয়াম ও অন্যান্য খনিজ উপাদান বিদ্যমান থাকায় এ মাটিতে লটকনের উৎপাদন ভালো হচ্ছে। স্বাদে-গন্ধে হচ্ছে মিষ্টি এবং আকৃতিতে ও হচ্ছে বড় বড়। নরসিংদীর রায়পুরা, শিবপুর, বেলাব, মনোহরদী ও পলাশ উপজেলার শত শত চাষি বর্তমানে লটকন বিক্রি করে অর্থনৈতিক সাফল্য ফিরিয়ে আনছেন। সরেজমিন দেখা গেছে, বেলাব উপজেলায় সবচেয়ে বেশি লটকনের বাগান রয়েছে। ২০ বছর আগে ও লটকনের স্বতন্ত্র বাগান ছিল না। তখন অন্যান্য ফলগাছের সাথেই দু-একটি গাছ লাগানো হতো। লটকন চাষিরা জানান, পূর্বসময়ে লটকনের তেমন চাহিদা ছিল না, দামও ছিল কম, সে কারণে কেউ লটকনের স্বতন্ত্র বাগান করার চিন্তা করত না। বর্তমানে চাহিদা ও মূল্য দু’টিই বেড়েছে।

অবসর প্রাপ্ত শিক্ষিকা কাজী লায়লা আহমেদ জানান, প্রতি কেজি লটকন তারা ঢাকায় নিয়ে ৯০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করে থাকেন। গত বছরের তুলনায় এ বছর ফলন কম আসলে ও দাম বেশী। লাখপুর গ্রামের তরুন কৃষক শফিকুল ইসলাম বলেন, লটকন একটি ঔষধি ও ভিটামিন সি সম্বৃদ্ধি ফল। তাই এর চাহিদা ব্যাপক।একটি পূর্ণবয়স্ক লটকন গাছে ৫ থেকে ১০ মণ পর্যন্ত ফলন পাওয়া যায়। অন্য কোনো ফলে সাধারণত এত টাকা আয় হয় না। লটকন চাষে রোগ বালাই তেমন একটা নেই। চাহিদা ও প্রচুর, এসব কারণেই দিন দিন নরসিংদীর বিভিন্ন এলাকায় লটকন চাষের প্রসার ঘটছে।

এ ছাড়া দেশের পাশাপশি মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপে এখানকার লটকনের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। ব্যবসায়ী মোঃ রফিকুল মিয়া জানান. আমার বাড়ি বাজিতপুরে সেখানেও লটকন চাষ হয় কিন্তু তেমন সুস্বাদু না হওয়ায় লটকনে লাভবান হতে পারছি না। বেলাবরের লটকন অনেক মিষ্টি ও সুস্বাদু হয় বলে এ লটকন বিক্রি করে লাভবান হওয়া যায়।

কুমিল্লার রামচন্দ্রপুর থেকে আসা আবু হানিফ বলেন, লটকনের জন্য বিখ্যাত এ নরসিংদী’র বেলাব উপজেলা। এখানে অনেক ভালমানের লটকন পাওয়া যায়। ৩ হাজার থেকে ৩৫০০ শ টাকা মণ লটকন এখান থেকে নিয়ে কুমিল্লায় বিক্রি করি। প্রতি কেজি বেশি দাম হলেও অধিক সুস্বাদু হওয়ায় ক্রেতাদের অনেক চাহিদা রয়েছে। লটকন চাষ করে ব্যাপক সাফল্য পাচ্ছেন চাষিরা।এখানকার মাটি ও আবহাওয়া লটকন চাষে উপযুক্ত হওয়ায়,এবং আর্থিক লাভের কারণে চাষিদের মধ্যে লটকন চাষে আগ্রহ বাড়ছে। নরসিংদী লটকন ফল দেশীয় চাহিদা মিটিয়ে মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপে রপ্তানি হচ্ছে। যা বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। জেলার বেলাব ,শিবপুর, মনোহরদী, নরসিংদী সদর, পলাশ,রায়পুরার আংশিক অঞ্চলে আবহাওয়া লটকন চাষে উপযোগী হওয়ায় লটকন ফল ভালো জন্মে। এ এলাকার লটকন ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের চাহিদা মিটিয়ে মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপে রপ্তানী হচ্ছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ নাজিম- উর- রউফ খাঁন জানান, এ বছর উপজেলায় প্রায় এক হাজার ১৮৫ হেক্টর জমিতে লটকন চাষ হয়েছে। এ মওসুমে এখানে প্রায় ৩ হাজার৩ শত মেট্রিক টন লটকন উৎপাদন হয়, যার আনুমানিক দাম ১ কোটি টাকা। আবহাওয়া ও বাজার মূল্য ভালো থাকায় লটকন চাষে আগ্রহ বাড়ছে কৃষকদের।উপজেলা কৃষি অফিসের পক্ষ হতে সার্বক্ষণিক কৃষকদের পরামর্শ ও সহযোগিতার করে আসছি।

এ ক্যাটাগরির আরো নিউজ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এ ক্যাটাগরির আরো নিউজ...