আজ ২৯শে চৈত্র, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ, ১২ই এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

ঘোড়াশাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের অবস্থা নাজুক ৭টির মধ্যে ৫ টিরই উৎপাদন বন্ধ

জাহিদুল ইসলাম জাহিদ পলাশ থেকে——

দেশের গুরুত্বপূর্ণ তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র বলে পরিচিত ১৩১০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ঘোড়াশাল তাপবিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের অবস্থা নাজুক।

সাতটি ইউনিটের মধ্যে পাঁচটি ইউনিটের উৎপাদনই বন্ধ। প্রায় সময়ই ৩-৪টি ইউনিটের উৎপাদন বন্ধ থাকে। বছরের অধিকাংশ সময় ইউনিটগুলোতে যান্ত্রিক ত্রুটি লেগে থাকে। ২০১০ সালের জুন মাসে ২১০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ৬নং ইউনিটটি আগুন লেগে এর টারবাইন পুড়ে যায়। সেই থেকে এই ইউনিটটি বিদ্যুৎ উৎপাদন চিরতরে বন্ধ হয়ে যায়।

১৯৬৭ সালে শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে ঘোড়াশাল তাপবিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের কাজে হাত দেওয়া হয়। প্রথমে ঘোড়াশালে ৫৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপন্ন হতো। পরবর্তীতে দিন দিন এ কেন্দ্রের বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি করা হয়। ১৯৬৭ সালে ঘোড়াশাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ১নং ইউনিটটি রাশিয়া টেকনোপ্রম এ·পার্ট নির্মাণ কাজ শেষ করলে ১৯৭৪ সালের জানুয়ারি মাসে মাত্র ৫৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপন্ন করে এর যাত্রা শুরু করা হয়। পরে ৫৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ২নং ইউনিটটি ১৯৭৬ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে উৎপাদনে আসে। এ দুটি ইউনিটেও দীর্ঘ ৫ বছর ধরে যান্ত্রিক সমস্যার কারণে বিদ্যুৎ উৎপদন বন্ধ রয়েছে । ২১০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন এ কেন্দ্রের ৩নং ইউনিটটি ১৯৮৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে উৎপাদনে আসে। এদিকে ২১০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ৩নং ইউনিটের টারবাইনের ব্লেডে যান্ত্রিক সমস্যার দরুন গত ৪ মাস ধরে এই ইউনিটের উৎপাদনও বন্ধ রয়েছে। অপরদিকে ২১০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ৪নং ইউনিটটি সাড়ে পাঁচশ’ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়। ২১০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ৪নং ইউনিটের ফিলটারে সমস্যা দেখা দিলে এর উৎপাদনও ৪ মাস ধরে বন্ধ রয়েছে। ১৯৯৪ সালের সেপ্টেম্বরে বিদ্যুৎকেন্দ্রের ২১০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ৫নং ইউনিটটি উৎপাদনে আসে। ইউনিটটি নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করতে প্রায় ৬শ’ কোটি টাকা ব্যয় হয়। বর্তমানে এ ইউনিটে প্রায় ১৮০ থেকে ১৯০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপন্ন হচ্ছে।

অন্যদিকে ঘোড়াশাল তাপবিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের ৬নং ইউনিটটি ১৯৯৯ সালের জানুয়ারি মাসে উৎপাদনে আসে। ২১০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন এ ইউনিটটির নির্মাণ ব্যয় হয় প্রায় সাতশ’ কোটি টাকা। রাশিয়ার টেকনোপ্রম এ·পার্ট এ ইউনিটটির নির্মাণ কাজ করে। কিন্তু ২০১০ সালের জুন মাসে এক অগ্নিকান্ডে এই ইউনিটের বিদ্যুৎ উৎপাদন একেবারে বন্ধ হয়ে যায়। ৩৬৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ৭ নং ইউনিটে বর্তমানে উৎপাদন অব্যাহত রয়েছে।। বিদ্যুৎকেন্দ্রের কন্ট্রোল রুম সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। এ কেন্দ্রের প্রতিটি ইউনিটের মেয়াদকাল ২০ বছর। প্রায় পাঁচ বছর পর পর প্রতিটি ইউনিটের ওভারহোলিং কাজ করার কথা।কিন্তু পাঁচ বছরের বেশি সময় অতিক্রম হওয়ার পরও কোনো কোনো ইউনিটের ওভারহোলিং কাজ করা হয় না।

ফলে এসব ইউনিট ক্রমেই দুর্বল হয়ে পড়ে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। তাই জরুরি ভিত্তিতে এসব ইউনিটের ওভারহোলিংসহ যান্ত্রিক সমস্যা দূর করা প্রয়োজন।

বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী জহিরুল ইসলাম বলেন, ৬নং ইউনিটটি আগুন লাগার পর এটি আর মেরামত না করে বিদ্যুৎকেন্দ্রে আরো আধুনিক করে এর পরিবর্তে সরকার ৩৬৫ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন ৭নং ইউনিটটি তৈরী করে। যা বর্তমানে এর উৎপাদন চালু রয়েছে। অপরদিকে ৩ ও ৪ নং ইউনিট দুটি ২০০ মেগাওয়াট থেকে ৪০০ মেগাওয়াটে কনভাট করে সরকার প্রকল্পের আওতায় রিপাউয়ারিং করতেছে। করোনা না থাকলে এ গুলো এত দিনে উৎপাদনে চলে আসতো। আগামী এক বছরের মধ্যে উৎপাদনে চলে আসবে। আমরা পলাশে চেস্টা করি ভালো রাখার,যাতে এলাকার মানুষ বিদ্যুৎ পায়।

এ ক্যাটাগরির আরো নিউজ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এ ক্যাটাগরির আরো নিউজ...