আজ ২রা বৈশাখ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ১৫ই এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

চাটমোহরে শিকারীদের ফাঁদে পড়ে হারিয়ে যাচ্ছে বক পাখি

মোঃ কায়সার আহম্মেদ, পাবনা সংবাদদাতাঃ

পাবনায় চাটমোহর উপজেলায় গোপালপুর গ্রামের চলনবিলের মাঝে ফাঁদ পেতে বক দিয়ে বক শিকার চলছে। ফলে ক্রমশ হারিয়ে যাচ্ছে আমাদের চিরচেনা বক ।

ধানখেতের মধ্যে বেতের পাতা আর কলার পাতা দিয়ে বানানো হয়েছে ছাউনি। সে ছাউনির নিচে রয়েছেন শিকারিরা। আর বাঁশের কঞ্চিতে তাঁরা বেঁধে রেখেছেন বক। ছাউনির ভেতর থেকে শিকারিরা বাঁধা বকগুলোকে নাড়াচ্ছেন। সে ডানা ঝাপটানো দেখে আশপাশ থেকে ছুটে আসছে বকের ঝাঁক। ছুটে আসা বকগুলো ছাউনির ওপর বসার পর নিচে থাকা শিকারিরা সেসব বক ধরে খাঁচায় ভরছেন।

ভাদ্র, আশ্বিন ও কার্তিক মাসে সকাল ৬ টা থেকে ৮ টা পর্যন্ত আমন ধানে জমে থাকা পানিতে ছোট মাছসহ পোকাগমাকড় খেতে আসে বিভিন্ন প্রজাতির পরিযায়ী ও দেশি পাখি। এসব পাখি শিকারে মেতে উঠেছে স্থানীয় শিকারীরা। তারা ফাঁদ পেতে পাখি ধরছে। বিশেষ করে বকের প্রজননকাল হওয়ায় ধরা পড়ছে ছানা বকগুলো। এলাকাবাসীর অভিযোগ, সঠিক নজরদারি ও জনসচেতনতার অভাবে পাখি শিকার বেড়েছে।

বন্য প্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২ অনুযায়ী পাখি শিকারের জন্য এক বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড অথবা সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে। তা ছাড়া একই অপরাধের পুনরাবৃত্তি ঘটালে সর্বোচ্চ তিন বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড অথবা সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হওয়ার বিধান রয়েছে।

গ্রামের কিছু মানুষের ধারণা, বকের মাংস খেলে শরীরের বিভিন্ন প্রকারের বাত রোগ নির্মূল হয়।তাছাড়া অনেকেই বকের মাংস খেতে ভালবাসেন। এ কারণে বকের মাংসের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।

বক শিকারি সোহেল হোসেন বলেন, আমি সহ ১০ থেকে ১২ জন বক শিকার করি। প্রতিদিন ছয় থেকে সাতটি করে বক স্বীকার করি।এক জোড়া বক ১৫০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হয়। তবে বক শিকার করা যে অপরাধ, এ বিষয়ে আমার জানা ছিল না।

চাটমোহর উপজেলার উদ্ভিদ ও প্রাণী সম্পদ, উপ-সহকারী কর্মকর্তা মোঃ মনিরুল ইসলাম বলেন,পাখি শিকার করা দণ্ডনীয় অপরাধ। প্রাথমিক পর্যায়ে তাদেরকে নিষেধ করা হবে। পুনরায় আবার যদি বক শিকার করে তাহলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ ক্যাটাগরির আরো নিউজ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এ ক্যাটাগরির আরো নিউজ...