আজ ১১ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ২৫শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

নকল স্বর্ণের পতুলে প্রতারণা, চক্রের দুই সদস্য আটক

 

এম.আর রুবেল, ভৈরব প্রতিনিধি :
নকল স্বর্ণের পতুল দিয়ে সহজ সরল মানুষকে বোকা বানিয়ে হাতিয়ে নেয়া হচ্ছে লাখ লাখ টাকা ও স্বর্ণালংকার। কিশোরগঞ্জের ভৈরবের বিভিন্ন গ্রামের মহিলাদের টার্গেট করে দীর্ঘদিন ধরে এ প্রতারণার সাথে জড়িত রয়েছে একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র। ওই প্রতারক চক্রের সদস্যদের অধিকাংশের বাড়ি কিশোরগঞ্জ জেলার পাকুন্দিয়া উপজেলায়। তারা মুলত স্বর্ণের গহনা তৈরির কারিগর। ওই চক্রের তিন সদস্য গত ছয় মাসে শুধু ভৈরবেই কয়েকটি পরিবার থেকে নকল স্বর্ণের পতুল দিয়ে হাতিয়ে নিয়েছেন আনুমানিক সাত লাখ টাকা ও পাঁচ ভরি ওজনের স্বর্ণালংকার। আজ সোমবার দুপুরে ভৈরবের চন্ডিবের গ্রামে জনতার হাতে আটক হন প্রতারক চক্রের দুই সদস্য বাদল মিয়া (৪২) ও রুহুল আমিন (৪০)। তাদের দুজনের বাড়ি কিশোরগঞ্জ জেলার পাকুন্দিয়া উপজেলায়।

জানাযায়, ভৈরব শহরের দরিচন্ডিবের গ্রামের সালাউদ্দিন মিয়ার মাতা আমেনা বেগমকে (ছদ্মনাম) চার মাস আগে প্রতারক চক্রের সদস্যরা একটি নকল স্বর্ণের পতুলকে আসল স্বর্ণ বলে সাড়ে ৬লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। এছাড়াও গত ৯ থেকে ১৬ ফেব্রুয়ারি মোবাইল ফোনে কথা বলে জ্বিনের বাদশা দাবি করে বিভিন্ন পারিবারিক ও আর্থিক সমস্যা সমাধানের কথা বলে কয়েক দফায় বিকাশের ভৈরব উপজেলার বধুনগর গ্রামের মাসুদ মিয়ার কন্যা শান্তা বেগমের কাছ থেকে নগদ ৩৯৮৫০/-টাকা ও পাঁচ ভূরি স্বর্ণালঙ্কার হাতিয়ে নেয়। প্রতারণার শিকার ভুক্তভোগী শান্তা বেগম স্বর্ণালঙ্কার ও টাকা উদ্ধারের জন্য গত ২১ ফেব্রুয়ারী ভৈরব থানায় লিখিত অভিযোগ দেন বলে জানাগেছে।
ওই অভিযোগে বলা হয়, ০১৭১৪৩৭২৭৩৫ এবং ০১৭৭৩৪৭১৮০১ এই দুটি মোবাইল নাম্বার থেকে শান্তা বেগমের বাবা মাসুদ মিয়ার ০১৭৪১৩৭২৭১৫ নাম্বারে কল করা হলে শান্তা বেগম কল রিসিভ করে কথা বলেন। পরবর্তীতে আরো কয়েক বার কল করে কথা বলে তার পারিবারিক ও আর্থিক সমস্যা সমাধানের মাধ্যমে বিভিন্ন উপকারের আশ্বাস দেন এবং ১কেজি ওজনের স্বর্ণের মূর্তি পাইয়ে দিবে আশ্বস্ত করেন। তাদের কথা বিশ্বাস করে ৯ ফেব্রুয়ারী প্রথম ধাপে ৩৩৫০/- টাকা, ১০ফেব্রুয়ারি ২১৫০০/- টাকা, ১৫ফেব্রুয়ারি ১০০০০/- টাকা ও ১৬ ফেব্রুয়ারী ৫০০০/- টাকাসহ মোট ৩৯৮৫০/- টাকা নগদ অ্যাপের মাধ্যমে প্রতারক চক্রের সদস্যদের ০১৭১৪৩৭২৭৩৫ এই নাম্বারে পাঠানো হয় বিভিন্ন সমস্যা সমাধান ও মূর্তির আশায়। এসব টাকা দেয়ার পর আবারো ফোন করে বলা হয় যতটুকু স্বর্ণ আছে তা নিয়ে শ্রীনগর হাই স্কুলের দক্ষিণ পাশে নতুন নির্মাণাধীন বিল্ডিংয়ের সামনে নিয়ে এসে স্বর্ণের মূর্তি নিয়ে যাওয়ার জন্য। নয়ত তার স্বামী ও বাবার বড় ধরনের বিপদ হতে পারে। তাদের কথামত সর্বশেষ ১৬ ফেব্রুয়ারী নগদ পাঁচ হাজার টাকা ও পাঁচ ভূরি স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে আসলে প্রতারক চক্রের সদস্যরা একটি নকল স্বর্ণের মূর্তি হাতে দিয়ে টাকা ও স্বর্ণালংকার হাতিয়ে নিয়ে চলে যায়। বাড়িতে যাওয়ার পর তিনি বুঝতে পারেন এটা আসল স্বর্ণের মূর্তি নয়, স্বর্ণের মতো দেখা গেলেও এটি মুলত পিতলের মূর্তি।

ভুক্তভোগী শান্তা বেগমের কাকা জাহের মেম্বার জানান, গত দুই সপ্তাহ হলো তার ভাতিজিকে জিনের বাদশা পরিচয় দিয়ে পারিবারিক ও আর্থিক সমস্যা সমাধান ও ১কেজি ওজনের স্বর্ণের মূর্তি দেয়ার আশ্বাস দেয় এবং নকল স্বর্ণের মূর্তি দিয়ে কয়েক তরফে ৫ভুরি সোনা ও নগদ চল্লিশ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয় প্রতারক চক্রের সদস্যরা। ২৭ ফেব্রুয়ারী সোমবার দুপুরের ওই প্রতারক চক্রের দুই সদস্যকে শহরের চন্ডিবের এলাকা থেকে আটক করে স্থানীয় লোকজন। খবর পেয়ে সন্ধ্যার সময় পৌর শহরের ৯নং বিট অফিসে এসে প্রতারক চক্রের দুই সদস্যকে আটক দেখে শনাক্ত করি এবং প্রতারণার বিষয়টি আটককৃতরা স্বীকার করেছে বলে জানান তিনি। আটককৃতরা হলো- কিশোরগঞ্জ জেলার পাকুন্দিয়া উপজেলার টানলক্ষ্মী গ্রামের মাতাব মিয়ার ছেলে বাদল মিয়া (৪২) ও সোহারফ হোসেনের ছেলে রুহুল আমিন (৪০)।
অভিযুক্ত বাদল মিয়া জানান একাজে তারা জড়িত থাকলেও মুলত কাজ করেছে তারই ছোট ভাই কাজল মিয়া। দুপুরে তাদের দুজনকে আটক করেন এলাকাবাসী।
অভিযুক্ত রুহুল আমিন জানান, একই এলাকায় বাড়ি তাদের দুজনের। সে মুলত স্বর্ণের কাজ করেন। আজ বাদল মিয়ার সাথে এসে জনতার হাতে আটক হন। বাড়িতে খবর দেয়া হয়েছে, বাড়ির লোকজন এসে টাকা পয়সা দিয়ে হয়ত তাদের ছাড়িয়ে নিবে।

স্থানীয় লোকজন জানান, আজকেও একটি বাড়িতে গিয়ে ভুলভাল বুঝিয়ে স্বর্ণের মূর্তির কথা বললে লোকজনের সন্দেহ হয়। পরে তাদের আটক করা হলে ভুক্তভোগীরা প্রতারণার নকল স্বর্ণের মূর্তি নিয়ে হাজির হয়। এবং আটককৃতরা তাদের বাড়িতে ফোন দিয়ে আটকে রাখার কথা জানালে তারা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করলে ঘটনাস্থলে আসেন ভৈরব থানা পুলিশের এসআই বাপ্পি। প্রতারক চক্রের দুই সদস্যের বক্তব্য ও ভুক্তভোগীদের বক্তব্য শোনে দুই ব্যক্তির জিম্মায় সমাধানের জন্য তাদের রেখে চলে আসেন।
শ্রীনগর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ হারুন উর রশীদ বলেন, সক্রিয় একটি প্রতারক চক্র গ্রামের সহজ সরল মানুষকে বোকা বানিয়ে নকল স্বর্ণের মূর্তি দিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। লোভে পড়ে অনেকই এ ফাঁদে পা দিয়ে স্বর্বশান্ত হচ্ছে। সাধারণ মানুষকে সচেতন করা দরকার। আজ চক্রের দুই সদস্যকে জনতা আটক করেছে শুনে ঘটনাস্থলে গিয়েছি। জনতার উচিত ছিলো পুলিশকে খবর দিয়ে তাদের হাতে তোলে দেয়া। দুপুর আটক করা হলে রাত ১০টা বেজে যাওয়া আমি নিজেই ভৈরব থানার ওসিকে বিষটি অবতগ করি।
এবিষয়ে ভৈরব থানার এসআই বাপ্পিকে ফোন করা হলে ফোন রিসিভ না করায় তার মন্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

 

এ ক্যাটাগরির আরো নিউজ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এ ক্যাটাগরির আরো নিউজ...