আজ ৫ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ১৯শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

নরসিংদী তাঁত প্রশিক্ষণ ইনস্টিউটের শিক্ষার্থীদের সেমিস্টার ফি কমানোর দাবিতে ২য় দিনের ক্লাস-পরিক্ষা বর্জন

 

নিজস্ব সংবাদদাতা, নরসিংদী

পরিক্ষার সেমিস্টার ফি কমানোর দাবিতে অনির্দিষ্ট কালের জন্য ক্লাস-পরিক্ষা বর্জন কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ বৃহস্পতিবার ২য় দিনে বিক্ষোভ মিছিল করেছে নরসিংদী তাঁত শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিউটের শিক্ষার্থীরা।

আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৯.৩০ টার দিকে ক্লাস বর্জন করে নরসিংদীর সাহেপ্রতাবে ইনস্টিউটের সামনে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল বের করে। ক্যাম্পাসে বিভিন্ন রাস্তা প্রদক্ষিণ করে একাডেমিক ভননের সামনে অবস্থান নেয়।

এ সময় বিভিন্ন সেমিস্টারের প্রায় দুই শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ গ্রহণ করেন।

গতকাল বুধবার দুপুর ১২ টার দিকে একই দাবিতে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল শেষ হলে দাবি আদায় না হওয়া অনির্দিষ্টকালের ক্লাস পরিক্ষার বর্জনের ঘোষনা দেন তারা।

শিক্ষার্থীরা বলছেন এর আগেও একাধিকবার তাদের দাবি আদায়ে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন এবং শিক্ষকদের আশ্বাসে আন্দোলন স্থগিতও করেছেন। কিন্তু তারা আশ্বাসের প্রতিফলন দেখতে না পেয়ে অনির্দিষ্ট কালের জন্য ক্লাস পরীক্ষা বর্জেনর ঘোষণায় অনড় থাকার ঘোষণা দেন।

নরসিংদী তাঁত শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিউনের ৬ষ্ট সেমিস্টারের শিক্ষার্থী মো. সজিব বলেন, আমরা সরকারী প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী। আমরা খোঁজ নিয়ে জেনেছি আমাদের তাঁত বোর্ডের অধীনে অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা আমাদের অর্ধেক বেতন ও সেমিস্টার ফি দেন। আমাদের বিভিন্ন বর্ষের শিক্ষার্থীদের সেমিস্টার ফি ৪ হাজার থেকে শুরু করে ৬ হাজার টাকা পর্যন্ত নেয়া হয় যা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সমতুল্য সেমিস্টার ফি দিতে হচ্ছে যা খুবই অমানবিক ও অন্যায়। আমাদের ন্যায় অন্যান্য সরকারী ইনস্টিউট গুলোতে আমাদের সেমিস্টার ফির অর্ধেক। আমরা কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে আন্দোলন করছি না। যদি আমাদের সেমিস্টার ফি ও বেতন কমানো না হয়, আমরা আমাদের শান্তিপূর্ণ ও অহিংসা আন্দোলন অনির্দিষ্ট কালের জন্য চালিয়ে যাবো।

একই সেমিস্টার আরেক শিক্ষার্থী রকিব আহমেদ বলেন, আমাদের ইনস্টিউট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে প্রায় এক যুগ আগে। আমাদের দাবি প্রিন্সিপালের কাছে নিয়ে গেলে তিনি আমাদেরকে বলেন যে এই প্রতিষ্ঠান খন্ডকালীন শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের মাধ্যমে পরিচালিত হয় যার জন্য বেশি টাকা ফি দিতে হয়। যদি সরকার এক যুগ পরেও সরকারীভাবে শিক্ষকও কর্মকর্তা নিয়োগ দিতে না পারেন সেটা সরকারের ও সংশ্লিষ্ট বোর্ডের ব্যর্থতা। তাদের ব্যর্থতার দায় আমরা কেন বহন করবো। অবিলম্বে সেমিস্টার ফি কমিয়ে আনা হোক। অতিবিলম্বে আমাদের দাবি পূরণ করা না হলে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। আমদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি চলছে, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত মাঠে আছি।

নরসিংদী তাঁত শিক্ষা ও ট্রেনিং ইনস্টিউটের ভারপ্রাপ্ত প্রিন্সিপাল গুলজার হোসেন বলেন, বিষয়টি আমরা তাঁত বোর্ডকে দাপ্তরিক চিঠির মাধ্যমে জানিয়েছি একাধিকার। আমাদের হাতে কিছুই করার নেই। বোর্ড থেকে সব কিছু নির্ধারিত হয়। তাছাড়া, আমাদের প্রতিষ্ঠানের অধিকাংশ শিক্ষক ও কর্মচারী খন্ডকালীন হওয়ায় তাদের সেমিস্টার ফি সহ অন্যান্য ফি কমানোর সুযোগ নেই।

 

এ ক্যাটাগরির আরো নিউজ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এ ক্যাটাগরির আরো নিউজ...