আজ ১লা শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ১৬ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

নোয়াপাড়া ময়েজউদ্দিন আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে বার্ষিক ক্রিয়া, সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান

জাকারিয়া আল মামুন গাজীপুর জেলা প্রতিনিধি
গাজীপুর জেলার কালীগঞ্জ উপজেলায় মোক্তারপুর ইউনিয়নের নোয়াপাড়ায় জাতীয় বীর শহীদ ময়েজ উদ্দিনের হাতে গড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। নোয়াপাড়া ময়েজউদ্দিন আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বার্ষিক ক্রিয়া সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান পালিত হয়। নোয়াপাড়া ময়েজউদ্দিন আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি, ইঞ্জিনিয়ার মোঃ মাসুদুর রহমান এর সভাপতিত্বে সভার কার্যক্রম আরম্ভ করা হয়। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে বক্তব্য রাখার কথা ছিল, বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাবেক প্রতিমন্ত্রী, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার আস্থাভাজন ও বিশ্বস্ত ,কালীগঞ্জের শান্তি কন্যা, গাজীপুর ৫ আসনের মাননীয় সাংসদ মেহের আফরোজ চুমকি এমপি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে বক্তব্য রাখেন, কালিগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন পলাশ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে বক্তব্য রাখেন, কালিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার ( ইউ এন ও) আসসাদিকজামান। বার্ষিক ক্রিয়া সাংস্কৃতি প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত হয়ে শুভ উদ্বোধন করেন। মোক্তারপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও মোক্তারপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি এসএম আলমগীর হোসেন। অনুষ্ঠান স্থলে আরো উপস্থিত ছিলেন কালিগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সকল নেতৃবৃন্দ এবং মোক্তারপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ যুবলীগ ছাত্রলীগ কৃষক লীগ মহিলা আওয়ামী লীগ তাঁতী লীগ সহ প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রী অভিভাবকবৃন্দ ও এলাকাবাসী। উল্লেখ্য, শহীদ মোঃ ময়েজউদ্দিন আহমেদ মহিলা ও শিশু বিষয়ক সাবেক প্রতিমন্ত্রী , বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গাজীপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য মেহের আফরোজ চুমকি’র পিতা। ১৯৮৪ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর তৎকালীন স্বৈরশাসক হুসাইন মুহাম্মদ এরশাদ সরকার বিরোধী আন্দোলনে ২২ দল আহুত হরতালের মিছিলে নেতৃত্ব দেওয়ার সময় এরশাদ সরকার সমর্থিত সন্ত্রাসীদের হামলায় ঘটনাস্থলেই শহীদ হন ময়েজ উদ্দিন আহমেদ। তিনি ঐতিহাসিক আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা পরিচালনা করার জন্য গঠিত ‘মুজিব তহবিলের’ আহবায়ক ছিলেন। একজন বিচক্ষণ আইনজিবী ও রাজনীতিক হিসেবে অত্যন্ত সাহসিকতার সঙ্গে তিনি ওই দায়িত্ব পালন করেন। তিনি উল্লেখযোগ্য সময় ধরে বৃহত্তর ঢাকা জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও পরে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। শহীদ ময়েজ উদ্দিন গাজীপুর জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার বড়হরা গ্রামে ১৯৩০ সালের ১৭ মার্চ জন্ম গ্রহণ করেন। তাঁর বাবার নাম ছুরত আলী ও মাতার নাম শহর বানু। ১৯৭২ সালে নোয়াপাড়া ময়েজ উদ্দিন আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত করেন। ১৯৭০ এবং ১৯৭৩ সালে আওয়াামীলীগের প্রার্থী হিসেবে কালীগঞ্জ নির্বাচনী এলাকা থেকে যথাক্রমে প্রাদেশিক পরিষদ সদস্য এবং জাতীয় সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন ময়েজ উদ্দিন আহমেদ। রাজনীতির পাশাপাশি বিভিন্ন সমাজসেবা মূলক কাজে জড়িত ছিলেন তিনি। ১৯৭৭ সাল থেকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশ রেডক্রস (বর্তমানে বাংলাদেশ রেডক্রিসেন্ট সোসাইটি) এর নির্বাচিত ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন। একাধারে বাংলাদেশ পরিবার পরিকল্পনা সমিতি (এফপিএবি)’র মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক হিসেবে গৌরবময় ভূমিকা পালন করায় গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার তাঁকে রাষ্ট্রীয় সম্মান “স্বাধীনতা পদক” এ ভূষিত করেন।

এ ক্যাটাগরির আরো নিউজ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এ ক্যাটাগরির আরো নিউজ...