আজ ১২ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ২৬শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

পলাশে জাল দলিল দিয়ে জমি আত্মসাৎতের চেষ্টা

 

পলাশ (নরসিংদী) প্রতিনিধি

নরসিংদীর পলাশে প্রতারণা করে জালিয়াতির মাধ্যমে জাল দলিল ও জাল বি.আর.এস পর্চা দিয়ে নামজারি এবং জমাভাগ আবেদনের মাধ্যমে জমি আত্মসাৎ চেষ্টা করার অভিযোগ উঠেছে।

উপজেলার জিনারদী ইউনিয়নের কুড়াইতলী গ্রামের মৃত জয়চন্দ্র রায়ের ছেলে স্বপন রায় ও মৃত রতন রায়ের ছেলে শ্রাবন রায়ের বিরুদ্ধে

এ অভিযোগ উঠে। জালিয়াতির মাধ্যমে এসব ভূয়া ও জাল কাগজপত্র তৈরি করে উপজেলার জিনারদী ইউনিয়নের কাটাবের গ্রামের সফর উদ্দিন, জামাল উদ্দিন ও কামাল হোসেনসহ পাঁচ জনের জমি আত্মসাৎ করার চেষ্টা করছে ভূমিদসু্য স্বপন রায় ও শ্রাবন রায়।

ভুক্তভোগীরা ন্যায় বিচার চেয়ে অভিযুক্তদের বিরম্নদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য উপজেলা সহকারী সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবরে গত ১৭ নভেম্বর প্রমাণসহ একটি লিখিত অভিযোগ করেছে। অভিযোগে সূত্রে জানা যায়, গত ২ সেপ্টেম্বর উপজেলার টেঙ্গরপাড়া মৌজার আর.এস ২৭৭ নং খতিয়ানের আর.এস ১৩২০ দাগের জমি অভিযুক্তদের নামে নামজারি ও জমাভাগ করার জন্য উক্ত দাগে একটি জাল দলিল ও একটি জাল বি.আর.এস পর্চা সংযুক্ত করে তাদের ভোটার আইডির ফটোকপি ও ছবিসহ আবেদনপত্রে একাধিক স্বাক্ষর দিয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি অফিসে একটি আবেদনপত্র জমা দেন। যার আবেদন নং ৬৪৪/২২-২৩।

ওই আবেদনে তারা, ২২/০৩/১৯৭২ইং তারিখের সাব-রেজিস্ট্রার অফিস নরসিংদী দেখিয়ে দলিল নং- ৯৩১৩ জমা দেন। পরর্বতীতে এ খবর ভোক্তভোগীরা জানতে পেয়ে, ওই দলিলের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য ওইসব দলিলের ফটোকপি নিয়ে সার্টিফাইড কপি তোলার জন্য নরসিংদী জেলা রেজিস্ট্রার অফিসের দ্বারস্ত্ম হলে জেলা রেজিস্ট্রার অফিস ওই দলিলের বিষয়ে একটি লিখিত ব্যাখা দেন। যাতে স্পষ্ট দেখা যায়, ওই দলিলের দাতা ও গ্রহীতার সাথে নামজারিতে আবেদন করা দলিলের দাতা- গ্রহীতার কোনো প্রকার মিল নেই। যা সর্ম্পূণ ভূয়া ও জাল। এ ছাড়াও অভিযোগ রয়েছে,ওই দাগে ভোক্তভোগীদের নামে রেকর্ড হওয়া একই বি.আর.এস পর্চা অভিযুক্তদের নামে জাল বানিয়ে নামজারীতে আবেদনকারী ব্যক্তিরা প্রতারণা ও জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছে। ভুক্তভোগীদের সাথে কথা বললে তারা জানান, ভূমিদসু্য স্বপন রায় ও শ্রাবন রায় আমাদেরকে হয়রানী করার জন্য নরসিংদী বিজ্ঞ ২য় যুগ্ম জেলা জজ আদালতে অভিযুক্তরা দখলবিহীন অন্য আরেকটি দলিলের বৈধতা চেয়ে আমাদেরকে হয়রানি করার উদ্দেশ্যে একটি দেওয়ানী মামলায় করেন। যা এখনো আদালতে চলমান। এছাড়া ওই এজাহারের দলিলের বিবরণের সাথে নামজারির আবেদন করা দলিলের বিবরণেরও কোনো মিল নেই বলে দাবি ভুক্তভোগীরে। তদন্ত্মের মাধ্যমে দোষীদের বিরম্নদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের কাছে জোর দাবিও করেন ভোক্তভোগীরা। এ বিষয়ে কথা বলতে অভিযুক্তদের নামজারিতে ব্যবহৃত মোবাইল নাম্বারে একাধিকবার কল দিলেও তাদের পাওয়া যায়নি।
জানতে চাইলে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সিলভিয়া স্নিগ্ধা বলেন, বিষয়টি তদন্ত্ম সাপেক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ ক্যাটাগরির আরো নিউজ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এ ক্যাটাগরির আরো নিউজ...