আজ ২৯শে চৈত্র, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ, ১২ই এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

প্রেমিকের বিয়ের খবর শুনে প্রেমিকার বিষপানে আত্মহত্যা

শরীয়তপুর প্রতিনিধি :

প্রেমিকের বিয়ের খবরশুনে প্রেমিকার বিষপানে আত্মহত্যা করার অভিযোগ উঠেছে। তবে নিহতের পরিবারের দাবি, প্রেমিক ওই মেয়েকে আত্মহত্যা করতে বাধ্য করেছে।

এঘটনায় আজ শুক্রবার (১২ আগস্ট) দুপুর আড়াটার দিকে শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার জপসা ইউনিয়নের শেখপুরাকান্দি নিহতর পরিবার সংবাদ সম্মেলন করেছেন।

এসময় নিহতর মা আমেনা বেগম, বাবা নিজাম খান, মামা বোরহান উদ্দিন মাদবর, সামাদ মাদবর,
মামাতো বোন সাদিয়া আক্তার, সামিয়া আক্তার, মামি ফরিদা বেগম, সাহানাজ বেগম উপস্থিত ছিলেন।

নিহত নুসরাত জাহান (১৫) নড়িয়া উপজেলার জপসার লক্ষ্মিপুর গ্রামের নিজাম খানের মেয়ে।নড়িয়া মজিদ জরিনা ফাউন্ডেশন স্কুল এন্ড কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের ১০ শ্রেণির ছাত্রী ছিল সে।

সংবাদ সম্মেলনে নিহতের মা আমেনা বেগম ও মামা বোরহান উদ্দিন মাদবর জানান, নড়িয়া উপজেলার ভোজেশ্বর কাঠপট্টি গৌড়াইল এলাকার ব্যবসায়ী দেলোয়ার হোসেন হাওলাদারের ছেলে আল আমিন হাওলাদার (২৪) এলাকার বখাটে। স্কুলে যাওয়ার পথে নুসরাত জাহানকে উত্তোক্ত করতো আল আমিন। একপর্যায়ে নুসরাতকে মৃত্যুর ভয় দেখিয়ে প্রেম করাতে বাধ্য করায়। বিয়ের আশ্বাসে একবছর যাবত প্রেমে জড়ায় নুসরাত।

কিন্তু নুসরাতকে বিয়ে না করে ঢাকার কেরানীগঞ্জ এলাকার এক মেয়েকে মঙ্গলবার বিয়ে করে আলআমিন। আগেরদিন সোমবার রাত ৯টার দিকে বিয়ের খবরশুনে ক্ষোভে দুঃখে লক্ষ্মিপুর
নিজ বাড়ির রুমে বিষপান করে। পরিবার তাকে উদ্ধার করে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। রাত ৩টার দিকে নুসরাত মারা যায়। পরে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায় পুলিশ। মঙ্গলবার নুসরাতের মামা বোরহান উদ্দিন মাদবর বাদি হয়ে নড়িয়া থানায় আলআমিনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন। তাদের দাবি, নুসরাতকে মানষিক চাপ প্রয়োগ করে আত্মহত্যা করতে বাধ্য করেছে আলআমিন। তাই আল-আমিনকে দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তারা।

এদিকে আল-আমিনের বাবা দেলোয়ার হোসেন হাওলাদার বলেন, আমার ছেলে আলআমিনের সঙ্গে নুসরাতের সম্পর্ক ছিল। বিষয়টি জানার পরে নুসরাতের বাড়িতে আমি বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে যাই। কিন্তু তারা রাজি হয়নি। তাই ছেলেকে অন্যত্র বিয়ে করাই। পরে শুনি নুসরাত মারা গেছে। আমার ছেলের বিরুদ্ধে তারা মিথ্যা মামলা করেছে। আমার ছেলে নির্দোশ।

নড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব আলম বলেন, এই ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। মামলার আসামী আলআমিন পালিয়ে বেড়াচ্ছে। তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

এ ক্যাটাগরির আরো নিউজ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এ ক্যাটাগরির আরো নিউজ...