আজ ১২ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ২৬শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

বিদ্যুৎ বিভ্রাট জেনারেটর নষ্ট,দিনে ভোগান্তি রাতে ভুতুড়ে পরিবেশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

হারুনুর রশিদ

নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিদ্যুৎ বিভ্রাট জেনারেটর নষ্ট রাতের বেলায় ভুতুড়ে পরিবেশ অতিষ্ঠ সেবা গ্রহীতারা। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জেনারেটর মেশিনটি গত পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে নষ্ট হয়ে পড়ে আছে। হাসপাতালের সাথে বিদ্যুোতিক লাইনের সাথে জেনারেটরের সংযোগ বিচ্ছিন্ন। অযত্নে অবহেলায় দীর্ঘদিন যাবত ব্যবহার না করার ফলে সরকারি সম্পদ বিনষ্ট। হাসপাতালের বহির্বিভাগসহ বিভিন্ন ওয়ার্ডের চিকিৎসাধীন এবং পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাতে আসা রোগীরা চরম দূর্ভোগ পোহাচ্ছে।

আজ মঙ্গলবার সকাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, বহির্বিভাগে সাধারণ রোগীর চিকিৎসা করাতে দীর্ঘ লাইন। ব্যাবস্থাপত্র অনুযায়ী পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাতে আসা এক্সরে ও প্যাথলজি বিভাগের সামনে সেবা নিতে আসা রোগীদের অপেক্ষার দীর্ঘসাড়ি।

সেবা নিতে আসা বৃদ্ধা জহুরা বেগম, নজরুল ইসলাম, নয়ন মিয়া, কিশোর সায়িমসহ আরও অনেকের সাথে কথা বলে জানা যায়, পরীক্ষা করতে এসে বিদ্যুৎ না থাকায় দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। প্রতিনিয়ত এমনটায় সংসৃষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি বিরূপ প্রতিক্রিয়ার কথা জানান সেবা গ্রহীতারা। বিদ্যুৎ চলে গেছে সীমিত আকারে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা চালো না থাকায় রাতের বেলায় বাতি ফ্যান বন্ধ থাকে। ওয়ার্ডে থাকা অনেক রোগী অন্ধকারে অস্বস্তি ও গরমে আরও অসুস্থ হয়ে পড়েন। জেনারেটর নষ্ট থাকায় সময়মতো পরীক্ষা-নিরীক্ষা নেবুলাইজ করাতে পারছেন না অনেক রোগী। এতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষাসহ ভোগান্তিতে পড়েছেন হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাতে আসা শ্বাসকষ্টসহ নানা অসুখে চিকিৎসাধীন রোগীরা।ফলে সেবা গ্রহীতাদের দূর্ভোগ চরমে। দ্রুত সেবার মান বৃদ্ধিতে কর্তৃপক্ষের সু দৃষ্টি কামনা করেছেন অনেকে।

অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ২৪টি ইউনিয়ন একটি পৌরসভার ৭ লাখের অধিক মানুষের স্বাস্থ্য সেবার এক মাত্র হাসপাতালটিতে সেবা প্রদান করে। দিনদিন রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। বেশির ভাগ পরীক্ষা নিরীক্ষা চালো রয়েছে। প্যাথলজি বিভাগে দৈনিক গড়ে ৬০-৭০ জন, এক্সরে বিভাগে ১৩-১৫ জন সেবা নিচ্ছেন।

হাসপাতালটিতে দীর্ঘদিন যাবত জেনারেটর নষ্ট।
অপারেশন থিয়েটার চলমান রাখতে ছোট জেনারেটর রয়েছে। নতুন জেনারেটরের চাহিদা পত্র উর্ধতন কর্তৃপক্ষের নিকট পাঠানো হয়েছে। জেনারেটরটি স্থাপনের পর থেকে অব্যবহৃত থাকায় নষ্ট হলে ২০১২ এবং ২০১৬ সালে দুই দফায় মেরামত করা হয়। পাঁচ বছর আগে পূনরায় মেরামত করার পর থেকে অব্যবহৃত থেকে নষ্ট হয়ে পরে রয়েছে। যা হাসপাতালের সাথে সংযোগ বিচ্ছিন্ন।

উপজেলা স্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা খান নূরউদ্দিন মো জাহাঙ্গীর জানান,‘প্রায়ই বিদ্যুৎ বিভ্রাটে সেবা গ্রহীতাদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়। সকাল থেকে দুপুরে বিদ্যুৎ না থাকলে পরীক্ষা নিরীক্ষা করাতে আসা রোগীদের কষ্ট বেড়ে যায়। জেনারেটর দীর্ঘদিন যাবত নষ্ট। মেরামত কারাতেও অনেক ব্যায় হবে। তেলের যা দাম দৈনিক ১২-১৮শ টাকা খরচ হবে। অপারেশন থিয়েটার চলমান রাখতে ছোট জেনারেটর রয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে এমপি মহোদয়ের সাথে কথা হয়েছে। নতুন জেনারেটরের চাহিদা পত্র উর্ধতন কর্তৃপক্ষের নিকট পাঠানো হয়েছে। তবে বিদ্যুৎ না থাকলে কিছুটা সমস্যাতো হবেই। সেবার মান বৃদ্ধিতে কাজ করে যাচ্ছি।’

এ ক্যাটাগরির আরো নিউজ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এ ক্যাটাগরির আরো নিউজ...