আজ ২৯শে চৈত্র, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ, ১২ই এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

বিলুপ্তির পথে চাটমোহরে চুন শিল্প

মোঃ কায়সার আহম্মেদ,পাবনা

ঝিনুকের খোল দিয়ে তৈরি চাটমোহরে চুনের কদর আছে দেশের বিভিন্ন স্থানে ক্রেতাদের কাছে। তবে চুন তৈরির কাঁচামালের দাম বাড়লেও এ থেকে তৈরি চুনের দাম বাড়েনি। ফলে লোকসানের মুখে পড়ে চাটমোহরে চুন তৈরির পেশা ছাড়ছেন এ শিল্পের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা।

চাটমোহর উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের চুন্নকর পাড়া ঝিনুকের চুনের উপর নির্ভরশীল প্রায় ৩০ কৃষক পরিবার। ঝিনুকের চুন তাদের একমাত্র আয়ের উৎস। বাপ-দাদার পেশা না ছেড়ে আকড়ে ধরে থাকার কারণেই আজ জীবনযুদ্ধে করে চলছে এ পরিবারগুলো।কয়েকবছরে লোকসানের মুখে চুন তৈরির পেশা ছেড়েছেন অনেকে। তবে যেটুকু আছে, তা ধরে রাখতে সহজ শর্তে ঋণসহ সরকারি সহায়তা চেয়েছেন কারিগররা।

প্রতি মণ ঝিনুক ক্রয় করে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা দরে। ঝিনুকগুলো গরম পানিতে সিদ্ধ করা হয়। এতে সহজেই খোলসটি খুলে যায়। প্রতিটি ঝিনুক থেকে ভেতরের নরম অংশগুলো বের করে নেয় হয়। যা হাঁস-মুরগির জন্য অত্যন্ত পুষ্টিকর এবং প্রিয় খাবার হিসেবে হাঁস-মুরগির খামারীদের কাছে বিক্রি হয়।পরে ঝিনুকের খোলসগুলো পানিতে ধুয়ে রোদে শুকানো হয়।

সবশেষে চুনের ভাটিতে আগুনে পুড়িয়ে তা ছাঁই করা হয়।ঝিনুকের এই ছাঁইগুলো বড় মাটির পাত্রে রেখে তাতে পানি মিশিয়ে বাঁশের লাকড়ি দিয়ে ঘুটিয়ে তৈরি করা হয় চুন।

চুন উৎপাদন কারিগর শ্রীঃ রামনাথ বলেন,চুন তৈরীর কাজ আমাদের জাত পেশা।বর্তমানে খাল-বিল, নদী-নালায় পর্যাপ্ত পরিমান ঝিনুক না পাওয়া যাওয়ায় কারণে অতিরিক্ত দামে তা সংগ্রহণ করতে হচ্ছে। ঝিনুক পুড়ানোসহ বিভিন্ন খরচ বাদ দিয়ে যে লাভ হয় তাতে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়ছে। তাই ক্ষতি সামলাতে অনেকে এই জাত পেশা বদল করে অন্য পেশায় চলে যাচ্ছে।

চুন উৎপাদন কারিগর শ্রীঃ মিঠুন চক্রবর্তী বলেন,এক মণ ঝিমুক কিনতে হয় ৫০০ টাকায়। আর চুন তৈরি করে তা বিক্রি হয় মণ প্রতি ৮০০ টাকায়। চুন তৈরির কাঁচামালসহ উৎপাদন খরচ বাড়লেও এ থেকে তৈরি চুনের দাম বাড়েনি। ফলে লোকসানে পড়তে হচ্ছে। সরকারি সহযোগিতায় যদি স্বল্প সুদের ঋণ পেতাম। তাহলে ভাল হত।

এ ক্যাটাগরির আরো নিউজ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এ ক্যাটাগরির আরো নিউজ...