আজ ৬ই বৈশাখ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ১৯শে এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

মনোহরদীতে ২১ লক্ষাধিক টাকা নিয়ে লাপাত্তা পৌর কর্মচারী, গোপনে সমঝোতা মেয়রের

মনোহরদী (নরসিংদী) প্রতিনিধি

নরসিংদীর মনোহরদীতে তুহিন নামে এক পৌর কর্মচারীর বিরুদ্ধে প্রায় ২১ লাখ ৯১ হাজার টাকা নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তুহিন মনোহরদী পৌরসভায় দীর্ঘদিন ধরে অফিস সহায়ক( পিওন) হিসেবে কাজ করছে। তার বাড়ি মনোহরদী পৌর এলাকার ( ৮ নং ওয়ার্ডে) হাররদিয়া গ্রামে। বিষয়টি গোপনে সমঝোতার অভিযোগ ওঠেছে মনোহরদী পৌরসভার মেয়র আমিনুর রশিদ সুজন বিরুদ্ধে। তুহিনের এই কান্ড এখন টক অব দ্যা মনোহরদীতে পরিণত হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পৌরসভার ভ্যাট ও ট্যাক্সের ৫ লক্ষ ৬১ হাজার টাকা এবং পৌর সচিবের ব্যাক্তিগত ১৬ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা জমা দেওয়ার জন্য তুহিনকে ব্যাংকে পাঠালে সে তা জমা না দিয়ে লাপাত্তা হয়ে যায়।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার জন্য মনোহরদী পৌরসভার সচিব মো. ইসমাইল মিয়ার সাথে যোগাযোগ করলে তিনি ঘটনা সত্য বলে জানান। ইসমাইল মিয়া মানবকন্ঠকে বলেন, পৌর কোষাগারের ৫ লক্ষ ৬১ হাজার টাকা এবং তার ব্যাক্তিগত ১৬ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা উত্তোলন করে অন্য একটি একাউন্টে জমা দেওয়ার জন্য একটি চেক দিয়ে ব্যাংকে পাঠানো হয় তুহিনকে। কিন্তু সে ব্যাংকে টাকা জমা না দিয়ে টাকা নিয়ে পালিয়ে যায়। পরে আমরা ২৫ এপ্রিল ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন করতে গিয়ে দেখি ব্যাংক হিসাবে কোন টাকা নেই। সাথে সাথে তুহিনকে ফোন দিলে তার মোবাইল ফোন বন্ধ দেখায়। এর পর থেকে সে অফিসেও আসেনা।তার বাড়িতে খোঁজ নিয়ে দেখা যায় সেখানেও তার অস্তিত্ব নেই। পরে সোমবার তাকে কক্সবাজার থেকে ধরে আনা হয়। এখন সে মেয়র মহোদয়ের হেফাজতে আছে। টাকা উদ্ধারে কোন প্রকার আইনের আশ্রয় নেয়া হয়েছে কি-না জানতে চাইলে ইসমাইল মিয়া জানান, মেয়র মহোদয় মীমাংসার আশ্বাস দিয়েছেন। যদি মীমাংসা না হয় তাহলে অবশ্যই তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

পৌরসভার এক কর্মচারী সাথে কথা হলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি জানান, মো. তুহিন আইপিএল ও অনলাইনের বিভিন্ন জুয়ায় আসক্ত।প্রায় দুই বছর আগেও সে পৌরসভার ৩ লক্ষ টাকা নিয়ে পালিয়ে গিয়েছিল। পরে পৌর মেয়র আমিনুর রশিদ সুজন বসে পারিবারিকভাবে মীমাংসা করে তাকে পুনরায় কাজে ফেরান। এবারও সে প্রায় ২১ লক্ষ ৯১ হাজার টাকা নিয়ে পালিয়ে গেছে। তিনি প্রশ্ন রাখেন, একজন চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী বারবার এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি করার দুঃসাহস পায় কোথা থেকে?

মনোহরদী পৌর মেয়র আমিনুর রশিদ সুজনের কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বলেন, টাকা জমা দিতে যাওয়ার সময় সে তার ভাইয়ের দূর্ঘটনার খবর পায়। পরে সে টাকা জমা না দিয়ে চিকিৎসায় ব্যয় করে ফেলে। পরে সে টাকা জমা দিয়ে দেয়। এটা অফিসিয়াল ভাবে মীমাংসা হয়ে গেছে।সে এখন অফিস ও করছে বলে তিনি মন্তব্য করেন তিনি।

এ ক্যাটাগরির আরো নিউজ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এ ক্যাটাগরির আরো নিউজ...