আজ ২৯শে চৈত্র, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ, ১২ই এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

মাধবদীতে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে ব্যাবসায়ীকে পিটিয়ে হত্যা

নিহত আব্দুস সালাম

মনিরুজ্জামান,নরসিংদীঃ

মাধবদীর চরভাসানিয়ায় পূর্ব শত্রুতার জের ধরে আলহাজ্ব আব্দুস সালাম (৫৫) নামে এক ব্যাবসায়ীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

মঙ্গলবার (৯ আগস্ট) সকাল সাড়ে নয়টার দিকে নরসিংদীর মাধবদী থানাধীন পাইকারচর ইউনিয়নের চরভাসানিয়া ঈদগাহ সংলগ্ন রাস্তায় এঘটনা ঘটে।

নিহত আব্দুস সালাম চরভাসানিয়া এলাকার মৃত আদম আলী প্রধানের ছেলে এবং গোপালদী বাজারের বিশিষ্ট পাইকারি কাপড় বিক্রেতা

মঙ্গলবার দুপুর দেড়টার দিকে সরেজমিনে নিহতের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় পুরো বাড়ি জুড়ে চলছে শোকের মাতম। নিহতের স্ত্রী,ছেলে ও মেয়েরা পিতৃ হত্যার বিচার চেয়ে বার বার মূর্ছা যাচ্ছেন।

নিহতের মেয়ে রুমানা আক্তার, ছেলে আবুল কালাম, ছেলে বউ তানিয়া আক্তার ও এলাকাবাসী জানায়, গত দুই সপ্তাহ পূর্বে স্থানীয় ইউপি সদস্য হারুন মেম্বারের ছেলে মোবারক এর নেতৃত্বে গোপালদী বাজার থেকে ১৫ হাজার গজ কাপড় চুরি হয় । পরবর্তীতে বাজার কমিটি সিসিটিভি ফুটেজ পর্যবেক্ষণ হাজী আব্দুস সালামকে সাক্ষী করে মোবারক গংদের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করে।

এঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে তারা হাজী আব্দুস সালামকে বিভিন্ন ভয়ভীতি ও প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দিতে থাকে।

তারই জেরে আজ সকাল ৯ টার দিকে হাজী আব্দুস সালাম কাপড় কেনার জন্য প্রায় ২৫ লক্ষ টাকা নিয়ে অটোরিকশা যোগে তার ব্যবসা স্থল গোপালদী বাজার যাচ্ছিলেন। যাওয়ার পথে অটোরিক্সাটি চরভাসানিয়া ঈদগা সংলগ্ন রাস্তায় পৌছলে হারুন মেম্বারের ছেলে মোবারক ও হারুন মেম্বারের নেতৃত্বে ফরহাদ, আক্তার, আনোয়ার মেম্বার, আলী, জুনায়েদ, হৃদয় ও রবিউল মিলে তার গতিপথ রোধ করে।

এসময় তারা হাজী আব্দুস সালামকে টেনে হিচড়ে অটো থেকে নামিয়ে বেধড়ক মারধর করে। তারা তার বুকের উপর চেপে বসে এবং বুকের উপর পা দিয়ে সজোরে আঘাত করতে করতে তার পাঁজরের হাড় ভেঙ্গে ফেলে, ঘাড় মটকে ফেলে এবং বোতল দিয়ে পিটিয়ে পিঠের শিরদাঁড়া ভেঙ্গে মুমূর্ষ অবস্থায় ফেলে চলে যায়।

পরে এলাকাবাসী মুমুর্ষ অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে মাধবদী প্রাইম জেনারেল হাসপাতাল পরে নরসিংদী জেলা হাসপাতালে নিয়ে যায় ।

সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের লাশ বর্তমানে নরসিংদী সদর হাসপাতাল মর্গে রয়েছে।

মাধবদী থানা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক সিরাজুল ইসলাম বলেন, হারুন মেম্বার ও তার ছেলে মোবারকের অত্যাচারে পুরো এলাকাবাসী আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে।

মাদক বিক্রি, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী ও ভুমিদস্যুতাসহ এমন কোন অপরাধ নেই যা তারা করে না। তাদের অপকর্মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার কারণে সালামের মতো একজন স্বনামধন্য ব্যাবসায়ীকে তারা খুন করেছে।

ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।

এঘটনায় অভিযুক্তদের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় বাড়িঘরের সকল আসবাবপত্র ভাঙচুর ও ছড়ানো ছিটানো অবস্থায় পড়ে রয়েছে তবে বাড়ির কাউকে খুঁজে পাওয়া যায় নি।

এব্যাপারে জানতে অভিযুক্ত ৫ নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য হারুন মেম্বারের মোবাইলে যোগাযোগ করলে তিনি এ ঘটনার সাথে তার সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করেন।

এঘটনায় পুরো এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।পরবর্তী যে কোন দুর্ঘটনা এড়াতে সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি রকিবুজ্জামান বলেন, আমাদের কাছে তথ্য আছে তার মাথায় পানি ঢালা অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে। সুতরাং এটা হত্যাকাণ্ড নাকি স্বাভাবিক মৃত্যু তা এখনো নিশ্চিত নয়। পোস্ট মর্টেম রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত বিস্তারিত কিছু বলা যাচ্ছে না বলে ও জানান তিনি।

এ ক্যাটাগরির আরো নিউজ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এ ক্যাটাগরির আরো নিউজ...