আজ ১২ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ২৬শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

বিয়ে বাড়িতে গাভীর মাংস দিয়ে বরপক্ষকে আপ্যায়ন,রসিকতার প্রতিবাদ করায় বৃদ্ধকে পিটিয়ে হত্যা

ভ্রাম্যমান প্রতিনিধি—

ভাগ্নির বিয়েতে বর পক্ষকে আপ্যায়ন করাবেন গাভীর মাংস নিয়ে। এ নিয়ে রসিকতা করতে মানা করায় প্রতিপক্ষের লোকজনের পিটুনীতে নিহত হয়েছে আবু কালাম(৫০) নামে এক বৃদ্ধ। নিহত আবু কালাম সম্পর্কে কনের মামা হন।

শুক্রবার (৯ সেপ্টেম্ববর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার অলিপুরা উত্তরপাড়া এলাকায় হায়দার আলীর মুদি দোকানের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত আবুল কালাম একই এলাকার মৃত নুর চাঁন মিয়ার ছেলে ও পেশায় একজন কৃষক।

পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্র জানায়, আগামী সোমবার আবু কালামের এক ভাগ্নির বিয়ে। ওই বিয়েতে কনে ও বরপক্ষের মেহমানদের খাওয়ানোর জন্য একটি গাভী কেনেন তার ভগ্নিপতি।

গত রাতে এশার নামাজ শেষে বাড়ির পাশে হায়দার আলীর দোকানে চা খেতে যান কালাম। ওই সময় সেখানে ছিলেন একই এলাকার মৃত সোলেমান মিয়ার ছেলে জয়ধর আলীসহ আরো তিন থেকে চারজন।

ওই সময় সবার সামনেই বিয়ের জন্য আনা ওই গাভী গরু নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করছিলেন জয়ধর।

গাভীর কথা জানাজানি হলে ভগ্নিপতির ইজ্জত যাবে ভেবে জয়ধরকে এ ধরনের সমালোচনা না করতে বারণ করেন কনের মামা কালাম।

এতে তার প্রতি ক্ষিপ্ত হন জয়ধর। এ নিয়ে দুজনের কথা কাটাকাটি হয়। এরই জেরে কালামের কান বরাবর সজোরে থাপ্পড় মারেন জয়ধর।

পরে তার ভাই ইমান আলীসহ চার থেকে পাঁচ মিলে কালামকে ঘিরে ধরে শরীরের বিভিন্ন স্থানে কিল-ঘুষি ও লাথি মেরে তাকে আহত করেন।

খবর পেয়ে কালামেন স্বজনরা গিয়ে তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় এক পল্লী চিকিৎসকের কাছে নেওয়ার পথে মৃত্যু হয় তার।

এ ঘটনার পর ঘরে তালা দিয়ে এলাকা ছেড়ে পালিয়েছেন অভিযুক্ত জয়ধর আলীসহ তার পরিবার ও জড়িত বাকি ব্যক্তিরা।

নিহতের মেয়ে রুনা আক্তার বলেন, বিয়েতে আসা মেহমানরা জানতে পারলে ওই গাভীর মাংস নাও খেতে পারেন। তাই এ নিয়ে লোকজনের সামনে সমালোচনা না করতে জয়ধরকে বারন করেছিলেন বাবা। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে বাবার কানে ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে থাপ্পড়, কিল-ঘুষি ও লাথি দিয়ে মাটি ফেলে দেন তারা।
ওই সময় তিনি শ্বাস নিতে পারছিলেন না।

পরে স্থানীয় এক পল্লী চিকিৎসকের কাছে নেওয়ার পথে মৃত্যু হয় বাবার। এ ঘটনায় জড়িতদের শাস্তি দাবি করেন তিনি।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী দুজন ব্যক্তি জানান, কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে জয়ধর ও তার লোকজন ঘিরে ফেলেন কালামকে।

তার কানে থাপ্পড় ও শরীরের কিল-ঘুষি ও লাথি মারেন তারা। এতে তিনি মাটিতে পড়ে গড়াগড়ি দিচ্ছিলেন।

সহকারী পুলিশ সুপার (রায়পুর সার্কেল) সত্যজিৎ কুমার ঘোষ বলেন, বিয়ের অনুষ্ঠানে মেহমানদের খাওয়ানো জন্য আনা গরু নিয়ে একটি দোকানে দুজনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে প্রতিপক্ষের থাপ্পড়ে কালাম নামে ওই ব্যক্তির মারা যান।

এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা হবে। তবে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো লিখিত অভিযোগ পাননি বলে জানান তিনি।

এ ক্যাটাগরির আরো নিউজ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এ ক্যাটাগরির আরো নিউজ...