আজ ২৯শে চৈত্র, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ, ১২ই এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

শিকলে বাঁধা জীবন থেকে কবে মুক্তি পাবে রাসেল?

মোমেন খান শিবপুর নরসিংদী ——-

মাঝে মধ্যে জানালা দিয়ে খোলা আকাশ দেখে রাসেল। বাইরের পরিবেশের সাথে দেখা হয়না গত ৫ বছর ধরে। অন্ধকার আর অস্বাস্থ্যকর পরিবেশই রাসেলের নিত্যসঙ্গী। মানসিক ভারসাম্যহীন এই তরুন দীর্ঘ ৫ বছর ধরে শিকলে বাঁধা অবস্থায় বন্দি হয়ে আছেন নিজগৃহে।
নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার বাঘাব ইউনিয়নের দক্ষিণ জয়মঙ্গল গ্রামের মৃত আব্দুল সালাম খানের ছেলে ২৬ বছরের তরুন রাসেলের মানবেতর জীবন যে কারো মনে দাগ কাটবে। অর্থাভাবে উন্নত চিকিৎসা করতে না পেরে আক্ষেপ করেন রাসেলের মা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর একটি ঘরে গ্রীলের সাথে গলায় এবং দুই পায়ে শিকল দিয়ে বাধা রাসেল খান।

এখানেই তার নাওয়া খাওয়া, প্রস্রাব পায়খানা, ঘুম। এভাবেই গত ৫ বছর ধরে শিকলবন্দি জীবনযাপন করছেন। তার শারীরিক অবস্থাও দিন দিন অবনতির দিকে যাচ্ছে।

পাশের একটি ঘরে থাকেন রাসেলের অসুস্থ বৃদ্ধা মা। তিনিই তার দেখা শুনা করেন।

রাসেলের মা ছালমা বেগম বলেন, রাসেল ছোট থেকেই মেধাবী ছিল স্কুলে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ালেখা করেছে। ১৪/১৫ বছর বয়সে স্কুলে পড়ার সময় হঠাৎ করেই তার মাঝে অস্বাভাবিক আচরণ লক্ষ্য করি। পরে আবার একটি মারামারির ঘটনায় মাথায় আঘাত পায় সে। তারপরে স্থানীয়ভাবে ও ঢাকায় নিয়ে চিকিৎসা দেয়া হয়। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয় না। একপর্যায়ে মানুষকে মারধর করা শুরু করে, নানাভাবে ক্ষতি করতে থাকেন। সবসময় গালিগালাজ করে। ধীরে ধীরে আরো পাগলামি বাড়তে থাকে তার। বাড়িঘর ভাঙচুর করে। তাই বাধ্য হয়ে তাকে শিকলে বেঁধে রাখা হয়েছে। বিগত ৫ বছর যাবত শিকলবন্দি সে।

আগে তার মানসিক অবস্থা ভালো দেখলে মাঝে মধ্যে শিকল খুলে দেওয়া হতো।

গত ৩ বছর যাবত অন্ধকার ঘরে শিকল দিয়ে বেঁধে রেখেছি। আগে শরীরে জামা-কাপড় রাখলেও এখন রাখে না। রাসেলের বাবা নেই পারিবারিক বিভিন্ন সম্যসায় আমরা এখন নিঃস্ব।

তাকে নিয়ে বর্তমানে আমি মানবেতর জীবন-যাপন করছি। তাই বিনা চিকিৎসায় শিকল দিয়ে বেঁধে রেখেছি।

রাসেলের উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন। কিন্তু রাসেলের মায়ের সেই অর্থ নেই। তাই রাসেলকে সম্পূর্ণ সুস্থ করে তুলতে সমাজের বিত্তবানসহ সরকারের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

স্থানীয় বাসিন্দা আজিজুর রহমান বলেন, রাসেল সত্যিই মানসিক ভারসাম্যহীন। তার পরিবারের বর্তমান অবস্থা খুবই খারাপ। অমানবিক জীবনযাপন করছে। পরিবারটির পাশে স্থানীয় প্রশাসন ও বিত্তবানদের এগিয়ে আসা উচিত। উন্নত চিকিৎসা পেলে সে সুস্থ হয়ে উঠবে।

সংবাদ পেয়ে সোমবার সরেজমিনে গিয়ে তার খোঁজ-খবর নিয়ে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন শিবপুর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মাহমুদুর রহমান।

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ফারহানা আহমেদ জানান, রাসেলের চিকিৎসার জন্য জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। ইতিমধ্যে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে একটি প্রতিনিধি দল রাসেলের বাড়িতে পাঠানো হয়েছে।

শিবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জিনিয়া জিন্নাত বলেন, বিষয়টি জানতে পেরে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে রাসেলের চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বলা হয়েছে

এ ক্যাটাগরির আরো নিউজ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এ ক্যাটাগরির আরো নিউজ...