আজ ৬ই বৈশাখ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ১৯শে এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

পুলিশের কাছ থেকে খুনের মামলার পলাতক আসামী ছিনিয়ে নেয়ার অভিযোগ বাদী পক্ষের

এম.আর রুবেল, ভৈরব প্রতিনিধি : 

খুনের মামলাসহ অন্তত দশটি মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামীকে পুলিশের কাছ থেকে জনতা ছিনিয়ে নেয় বলে অভিযোগ বাদী পক্ষের। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে আসামি ছিনিয়ে নেয়ার ঘটনাটি অস্বীকার করা হয়েছে।
শনিবার রাত আনুমানিক ১১টায় এঘটনা ঘটেছে কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার মৌটুপী গ্রামে।
ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামীর নাম আশরাফুল হক (৫২)। সে মৌটুপী গ্রামের আবদুল হক মিয়ার ছেলে। ২০০৫ সালে উপজেলার মৌটুপী গ্রামের আবুবকর সিদ্দিকের ছেলে এবং সাদেকপুর ইউপির বর্তমান চেয়ারম্যান সরকার সাফায়েত উল্লার ছোট ভাই উবাইদুল্লাহ হত্যার মামলার অভিযুক্ত আসামি আশরাফুল হক দীর্ঘ ১৮ বছর যাবত পলাতক রয়েছে। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে মারামারি ও সংঘর্ষসহ অন্যান্য অপরাধে ভৈরব থানায় আরও দশটি ওয়ারেন্ট রয়েছে বলে জানাযায়।

বাদী পক্ষ জানান, দীর্ঘ ১৮বছর আগে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে উবাইদুল্লাহকে প্রতিপক্ষ আশরাফুল্লাহগং খুন করেন। ওই খুনের ঘটনায় তখন ভৈরব থানায় মামলা করা হয়। ওই মামলায় আজ পর্যন্ত আদালতে হাজির না হয়ে সে পলাতক জীবনযাপন করে। খুনের মামলা ছাড়াও তার বিরুদ্ধে আরও ১০টি মামলা রয়েছে। ওই মামলা গুলোরও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামী।
শনিবার রাতে বাদীপক্ষ লোকজন মৌটুপী গ্রামে আশরাফুলকে দেখতে পেয়ে ভৈরব থানার এসআই পল্লবকে ফোন দেয়। পরে অন্যান্য অফিসার সহ পুলিশের একটি দল মৌটুপী গ্রামে পৌঁছালে বাদীপক্ষের লোকজন ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি আশরাফুলকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন। পুলিশ তাকে হ্যান্ড লাগিয়ে নিয়ে আসার সময় বাদী পক্ষের লোকজন চলে যায়। কিন্তু কিছুক্ষণ পরই বাদী পক্ষের লোকজন জানতে পারে ওই আসামিকে পুলিশ ছেড়ে দিয়ে চলে আসে। কি কারণে ছেড়ে দিলো জানার জন্য এসআই পল্লবের মোবাইলে ফোন করলে রিসিভ না করায় ৯৯৯ নম্বর ফোন করেন। পরে রাতেই সাংবাদিকরা ঘটনা জানতে এসআই পল্লবকে ফোন করলে সে ফোন রিসিভ করেনি।
নিহতের ভাই আল আমিন জানান, শনিবার রাতে খুনের পলাতক আসামীক মৌটুপি গ্রামে দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেয়। খবর পেয়ে রাত ১১ টায় একদল পুলিশ ঘটনাস্থল মৌটুপি গ্রামে গেলে তার ভাতিজা নাহিদ ওই আসামীকে ঝাপটে ধরে পুলিশের কাছে সোপর্দ করলে তাকে হ্যান্ডকাপ পড়ায় পুলিশ। এসময় আসামী আশরাফুলের আত্মীয়স্বজনসহ তার লোকজন পুলিশের হাত থেকে তাকে জোর করে ছিনিয়ে নেয়।
বাদী পক্ষের নাহিদ বলেন, আমি আশরাফুলকে ঝাপটে ধরে পুলিশের হাতে দিলে আসামীর লোকজন বেসামাল পরিস্থিতির সৃষ্টি করে তাকে ছাড়িয়ে পালাতে বাধ্য করে। তারা এসময় পুলিশের ওপর চড়াও হয়। এমন পরিস্থিতিতে পুলিশ তাকে ছেড়ে দেয়।

এবিষয়ে ভৈরব থানার এসআই পল্লব সাহা জানান, শনিবার দুপুরে সরকার সাফায়ত উল্লাহ চেয়ারম্যান থানায় ওসি স্যারকে বিষয়টি অবগত করেন। ওসি স্যারের অনুমতি নিয়ে রাতে ১০/১৫জন পুলিশ মৌটুপী গ্রামে যায়। গিয়ে দেখি পলাতক আসামী আশরাফুলকে নাহিদ ঝাপটে ধরে আছে। সে ধরার জন্যই আসামি পক্ষের লোকজন ক্ষিপ্ত হয়। দুই পক্ষের উত্তেজনা দেখে মনে হয়েছে আসামি ধরলে সংঘর্ষ মারামারি হতে পারে। আমরা থাকলে ঝগড়া হতে পারে তাই ঘটনাস্থল থেকে চলে আসি।। এসময় তিনি এ প্রতিনিধিকে অনুরোধ করেন নিউজ করে যেন কোন ঝামেলায় না ফেলা হয়। তিনি বলেন উপকার করতে গিয়ে এখন দোষী হলাম।

ভৈরব থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ মাকছুদুল আলম সাংবাদিকদের জানান, আশরাফুলের বিরুদ্ধে খুনের মামলাসহ ১০টি ওয়ারেন্ট আছে থানায়। ১৮বছর যাবত সে পলাতক। শনিবার খবর পেয়ে পুলিশ তার গ্রামে গেলে তাকে পাওয়া যায়নি।পুলিশের হাত থেকে আসামী ছিনিয়ে নেয়ার কথাটি সত্য নয়।

এ ক্যাটাগরির আরো নিউজ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এ ক্যাটাগরির আরো নিউজ...