আজ ৪ঠা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ১৮ই মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

ছেলের চুরির অভিযোগে বাবাকে নির্যাতনের অভিযোগ চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে

নরসিংদী প্রতিনিধিঃ 

ছেলের চুরির অভিযোগে তাকে না পেয়ে তার বাবাকে বাড়ি থেতে ধরে নিয়ে দিনভর অমানুষিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে এক ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে। নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলার খিদিরপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ কাউছার রশিদ বিপ্লবের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ। নির্যাতনের দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েন ওই চেয়ারম্যান।

জানা যায়, গত ২৮ মার্চ মঙ্গলবার সকাল ৮টায় খিদিরপর ইউনিয়নের ওই চেয়ারম্যান পাড়াতলা গ্রামে তার ১০/১২ জন লোক পাঠায় কৃষক আঙ্গুর মিয়ার বাড়িতে। অভিযোগ আঙ্গুর মিয়ার ছেলে সাদেকুল ইসলাম পাশের এলাকা চরসাগরদী গ্রামের সোহাগ মিয়ার একটি ছাগল চুরি করে নিয়ে এসেছে। এসময় সাদেকুলকে না পেয়ে চেয়ারম্যানের লোকজন সাদেকুলের বাবা আঙ্গুর মিয়াকে ঘর থেকে জোড় করে তুলে আনে চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে। পরে একটি কক্ষে আটকে রেখে করা হয় নির্যাতন। বর্তমানে নির্যাতিত আঙ্গুর মিয়াকে মনোহরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বেপরোয়া কাউছার রশিদ বিপ্লব চেয়ারম্যান নির্বাচিত হবার পর থেকেই একের পর এক বির্তকিত কর্মকান্ড করে সমালোচিত। এর আগেও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে অত্র ইউনিয়নের ৭ জন ইউপি সদস্য তার বিরুদ্ধে অনাস্থা দেন। পরে উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি মোঃ ফজলুল হকের মধ্যস্হতায় উক্ত অনাস্থা প্রস্তাব উঠিয়ে নেন ইউপি সদস্যরা।

নির্যাতিত কৃষক আঙ্গুর মিয়ার পরিবারের সদস্যরা জানান,সম্পূর্ণ সন্ত্রাস সিষ্টেমে চেয়ারম্যানের লোকজন ২৮ মার্চ মঙ্গলবার সকালে আঙ্গুর মিয়াকে খিদিরপুর পাড়াতলা বাড়ি থেকে উঠিয়ে নেন। আঙ্গুর মিয়া ওই গ্রামের আওয়াল নবীর ছেলে। ওই দিন তিনি রোজা ছিলেন। বাড়ি থেকে উঠিয়ে নিয়ে চেয়ারম্যানের কার্যালয়ের একটি কক্ষে আটকে রেখে দিনভর করা হয় আঙ্গুর মিয়াকে নির্যাতন। অপরাধ আঙ্গুর মিয়ার ছেলে সাদেকুল ইসলাম নাকি চরসাগরদী গ্রামের সোহাগ মিয়া নামে এক লোকের একটি ছাগল চুরি করেছে। একারনে ছেলেকে না পেয়ে বাবা আঙ্গুর মিয়াকে তারা তুলে নিয়ে ঘরে আটকে রেখে নির্যাতন করে। ছাড়িয়ে আনতে গেলে চেয়ারম্যান ও তার লোকজন দরিদ্র পরিবারটির কাছে এক লক্ষ টাকা মুক্তিপণও দাবি করে বসেন।

মারধর করায় শারিরীক ও মানষিক ভাবে বিপর্যস্ত
আঙ্গুর মিয়াকে মনোহরদী উপজেলা স্বাস্থ্য
কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এ ব্যাপারে নরসিংদী আদালতে একটি মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছেন নির্যাতিত পরিবার।

নির্যাতিত কৃষক আঙ্গুর মিয়ার স্ত্রী রিমা আক্তার জানান,আমার ছেলে নাকি ছাগল চুরি করেছে। এমন মিথ্যা অভিযোগে ছেলেকে বাসায় না পেয়ে তারা আমার স্বামীকে উঠিয়ে নিয়ে একটি কক্ষে আটকে রেখে নির্যাতন করে। আমি রাত ১০টা পর্যন্ত আমার স্বামীকে ছেড়ে দেয়ার জন্য বারবার চেয়ারম্যানকে অনুরোধ করছি। কিন্তু তিনি অনুরোধ শুনেনি বরং উল্টো আমার কাছে এক লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। মুক্তিপনের টাকা দিতে না পারায় তারা আমার স্বামীকে পুলিশের হাতে তুলে দিবে বলে হুমকী দেয়। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে অবস্থা বেগতিক দেখে রাত ১ টায় আমার স্বামীকে তারা ছেড়ে দেয়।

এসময় তিনি বলেন,আমার ছেলে যদি অপরাধী হয় তাহলে তার বিচার হোক। কিন্তু‘ আমার নিরপরাধ স্বামীকে এভাবে ধরে এনে মিথ্যা অপবাধ দিয়ে মারপিট করায় আমার মানসম্মানের হানি হয়েছে। আমি এই চেয়ারম্যানের বিচার চাই।

খিদিরপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মাহাবুবুর রহমান জামিল বলেন ,ভুক্তভোগীরা আমার কাছেও এসেছেন। তারা সব ঘটনা খুলে বলেছে। ঘটনাটি অত্যান্ত লজ্জাজনক। আমি এ ঘটনার নিন্দা জানাই।

অভিযুক্ত চেয়ারম্যান মো. কাউছার রশিদ বিপ্লব বলেন,আঙ্গুর মিয়ার ছেলে সাকিব এ পর্যন্ত প্রায় শতাধিক গরু ছাগল চুরি করেছে। মাহমুদুল হাসান নামে তার আরেক সহযোগীকেও আমরা আটক করেছি। আঙ্গুর মিয়া তার চোর ছলেকে বাড়ি থেকে পালিয়ে যেতে সাহায্য করায় তাকে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদ করে তাকেও ছেড়ে দেয়া হয়েছে। মারধর ও টাকা চাওয়ার দাবি সম্পূর্ণ ভূয়া ও ভিত্তিহীন।

মনোহরদী থানার ওসি মো. ফরিদ উদ্দীন বলেন,খিদিরপুর ইউনিয়নের চেয়ারমান আমাকে সন্ধ্যার সময় ফোন দিয়ে জানিয়েছে যে, কটিয়াদী গ্রাম থেকে ছাগল চুরির অভিযোগে দুইজনকে আটক করা হয়েছে। প্রত্যন্ত অঞ্চল হওয়ায় আমরা এখনো ঘটনাস্হলে যেতে পারিনি। আর ছেলেকে না পেয়ে পিতাকে আটক করার কথা আমরা জানিনা। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

মনোহরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম বলেন,এরকম একটা অভিযোগ আমরা পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ ক্যাটাগরির আরো নিউজ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এ ক্যাটাগরির আরো নিউজ...