আজ ২রা বৈশাখ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ১৫ই এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

গলায় ওড়না পেচিয়ে নারীর আত্মহত্যা

নরসিংদী প্রতিনিধি

নরসিংদী পৌর শহরের কাউরিয়াপাড়া এলাকায় সুমনা ইসলাম নামে এক নারী ঘরের দরনার সাথে ওড়না পেচিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১টার দিকে পৌর শহরের কাউরিয়াপাড়া এলাকার মৃত আবু তালেবের বাড়ি থেকে ঘরের দরজা ভেঙে মরদেহ উদ্ধার করেছে নরসিংদী সদর থানা পুলিশ।

নরসিংদী সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তানভীর আহমেদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

নিহত সুমনা ইসলাম পলাশ উপজেলার চরনগরদী’র মাঝেরচর এলাকার আফসার উদ্দিনের স্ত্রী এবং মনোহরদী উপজেলার হাতিরদিয়ার চঙ্গবান্দা এলাকার রফিকুল ইসলামের মেয়ে। সুমনা ইসলাম পৌর শহরের পলি ক্লিনিক নামে একটি প্রাইভেট ক্লিনিকে সেবিকার কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন।

নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসী জানায়, স্বামীর সাথে পারিবারিক কলহের জেরে স্বামীর বাসা ছেড়ে কাউরিয়াপাড়া এলাকার আবু তালেবের বাড়িতে ভাড়া বাসায় থাকতেন সুমনা ইসলাম। এখানে স্থানীয় একটি প্রাইভেট ক্লিনিকে নার্সের চাকরি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন তিনি। শনিবার রাতে তার স্বামী আসে তার সাথে দেখা করতে। তখনও তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও ঝগড়া হয়। পড়ে রাতে স্বামী চলে যাওয়া পর ঘরের দরজা বন্ধ করে দেয় সুমনা। সকাল গড়িয়ে দুপুর হয়ে গেলে ঘরের দরজা না খোলায় বাড়ির লোকজন পুলিশে খবর দেয়। পরে পুলিশ এসে ঘরের দরজা ভেঙে সুমনার মরদেহ উদ্ধার করে। পরবর্তীতে সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে।

নিহতের মা রাহিমা বেগম বলেন, আমার মেয়েকে তার স্বামী টাকার জন্য অনেক মারধর করতো। আমাদের এলাকার অনেকের কাছ থেকে লাভে টাকা এনে দিয়েছে তাকে ব্যবসা করার জন্য। তার অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে তার বাড়ি ছেড়ে এই এলাকায় এসে ভাড়া বাসায় থেকে চাকরি করে সংসার চালাত আমার মেয়ে।এখানে এসেও সে অত্যাচার নির্যাতন করতো তার জন্যই আমার মেয়ের এই অবস্থা আমি এর বিচার চাই।

নিহতের বোন কণিকা ইসলাম বলেন, আমার বোনের উপর তার স্বামী অনেক অত্যাচার নির্যাতন করতো সেই জন্যই আমার বোন আত্মহত্যা করেছে আমি এর বিচার চাই।

নরসিংদী সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তানভীর আহমেদ জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে দরজা ভেঙে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পারিবারিক কলহের জেরে এই আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত কোন লিখিত অভিযোগ পাইনি। ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের লোকজনের সাথে কথা বলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ ক্যাটাগরির আরো নিউজ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এ ক্যাটাগরির আরো নিউজ...