আজ ৬ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ২০শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

বীজ আলুর আতুড়ঘর নীলফামারীর বিএডিসির খামার

ইব্রাহীম সুজন, নীলফামারী 

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতি ইঞ্চি জমিকে উৎপাদনের আওতায় আনতে হবে। সেইসাথে বিশ্বায়নের এই যুগে কৃষিই হোক দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি। তেমনি নীলফামারীর ডোমার বিএডিসির বীজআলু উৎপাদন করে দেশে কৃষকদের বীজআলুর চাহিদা পূরণ করছে। খামারটি যেন ভিত্তি বীজআলুর সূতিকাগার হিসেবে পরিচিত।

এ বছর খামারে প্রায় ৪১০ একর জমিতে বিভিন্ন ধরনের আলুবীজ উৎপাদন কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। খামারটিতে বীজআলু চাষাবাদের পাশাপাশি বোরো, আউশ, আমন ধান চাষাবাদ করা হয়। উৎপাদিত সকল ফসল বীজ হিসেবে সংগ্রহ করে।

চলতি মৌসুমে বীজ উৎপাদন করে খামারটি দেশের সেরা বীজ উৎপাদন খামার হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। বীজআলুর মধ্যে এস্টারিক্স, সানসাইন, সানতানা, কার্ডিনাল, মিউজিকা, কারেজ, গ্রানোলা, বারি আলু-৬২, ডায়মন্টসহ অন্যান্য মোট ২৬টি জাতের আলুর প্লান্টলেট হতে ১৫ লাখ ৫৮ হাজার ৬৬৫টি চারা তৈরি করা হয়েছে। এতে প্রতিবছর প্রায় ৪০,০০০ মেট্রিক টন বীজআলু চাষী পর্যায়ে বিপণন করা হয়। এছাড়াও শিল্পে ব্যবহার, রপ্তানি উপযোগী এবং উচ্চফলনশীল জাতের পরীক্ষামূলক কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

তথ্যমতে, ১৯৫৭-৫৮ সালে সরকার ডোমার খামারটি প্রতিষ্ঠা করে। তৎকালীন কৃষি বিভাগের তত্ত্বাবধানে খামারের কার্যক্রম শুরু হয়। বীজআলু উৎপাদনে অধিক উপযোগী মনে করে ১৯৮৯-৯০ সনে খামারটি আলুবীজ বিভাগে অন্তর্ভুক্ত হয়।

খামারের কাজ করতে আসা শ্রমিক আব্দুল জলিল বলেন, ডোমার বিএডিসি ভিত্তি বীজআলু উৎপাদন খামারে আমরা কাজ করে বেকারত্বের অভিশাপ থেকে মুক্ত হয়েছি। আগে আমার বাড়ির কাজ করে বসে থাকতে হতো। এখন এখানে কাজ করে পরিবারসহ ছেলে-মেয়ে লেখাপড়া করাচ্ছি।

আরেক কৃষি শ্রমিক রেজাউল ইসলাম বলেন, আমি আগে রাজমিস্ত্রির কাজ করতাম। খামারে কাজ করে দিন ভালো যাচ্ছে। খামারে আমাদের শ্রমিকদের জন্য সুযোগ সুবিধা ভালো।

সোনারায় এলাকার বাসিন্দা একরামুল হক বাদশা বলেন, আগে খামারটি ছিলো উচু নিচু এখন তা মাঠি ভরাটের পর খামারটিতে চাষাবাদও বেড়েছে। খামারটিকে কেন্দ্র করে শত মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। কৃষিবিদ আবু তালেব মিঞা খামারে যোগদানের পর খামারে বীজ আলুসহ গম ও ধানবীজ উৎপাদনে কঠোর পরিশ্রম করে চলেছেন। তিনি যোগদানের পর খামারের চিত্র পাল্টে গেছে।

সহকারী পরিচালক সুব্রত মজুমদার বলেন, বিভিন্ন জাতের আলু হতে প্লান্টলেটের মাধ্যমে যে মিনিটিউবার (চারা) উৎপাদন করা হয়েছে সেগুলো ভাইরাস মুক্ত ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন ও সহনশীল। খামারটিতে উৎপাদিত সকল আলু ভিত্তি বীজ হিসেবে সংগ্রহ করা হয়ে থাকে। আধুনিক যান্ত্রিকীকরণ পটেটো প্লান্টার দ্বারা আলুবীজ রোপণ, ডিগার দ্বারা আলু উত্তোলন করে গ্রেডার মেশিন দ্বারা বীজ আলু গ্রেডিং করে নিজস্ব হিমাগারে সংরক্ষণ করা হয়।

ডোমার ভিত্তি বীজআলু উৎপাদন খামারের উপপরিচালক কৃষিবিদ আবু তালেব মিঞা বলেন, চলতি বছরে ৪১০ একর জমিতে আলু চাষ করা হচ্ছে। যার ফলন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২৩০০ টন। যা গত বছরের তুলনায় ৩০ একর বেশি জমিতে আলু চাষ করা হয়েছে। আশা করছি এবারও লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি অর্জন হবে। তাছাড়া খামারটিতে ১০ একর জমিতে গম চাষ করা হয়েছে।

এ ক্যাটাগরির আরো নিউজ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এ ক্যাটাগরির আরো নিউজ...