আজ ১লা শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ১৬ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

কাপ্তাই হ্রদে পানি স্বল্পতা নৌ চলাচল ব্যাহত, দূর্ভোগে যাত্রীরা

সাকিব আলম মামুন, লংগদু (রাঙামাটি) প্রতিনিধিঃ

কোথাও গাছের গুঁড়িতে ধাক্কা খাচ্ছে নৌকা। কোথাও ডুবোচরে নৌযান আটকে পড়ায় যাত্রীদের অপেক্ষা করতে হচ্ছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা। রাঙামাটির লংগদুতে কাপ্তাই হ্রদে পানি কমে যাওয়ায় প্রায়ই ঘটছে এমন দুর্ঘটনা। এ পরিস্থিতিতে উপজেলার সাতটি ইউনিয়নে এরই মধ্যে অনেক গুলোতে বোট চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে পর্যটকদের।

নৌযানের চালকরা জানান, কাপ্তাই লেকের লংগদু-রাঙামাটি নৌপথে একাধিক স্থানে পানির নিচে গাছের গুঁড়ি রয়েছে। পানি বেশি থাকলে সেগুলো নিচে পড়ে থাকায় নৌযান চলাচলে সমস্যা হয় না। কিন্তু পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে সেগুলো ভেসে উঠতে শুরু করে। পানির ওপরে ভেসে ওঠা গাছের গুঁড়িগুলো নৌযানের চালকরা সচেতনভাবে এড়িয়ে গেলেও পানির সামান্য নিচে থাকা গুঁড়িগুলোতে দুর্ঘটনা ঘটছে।

চালকরা আরও জানান, উপজেলার মাইনীমূখ বাজার থেকে কাট্টলী বিল এলাকায় যেতেই অন্তত ৮-১০টি গাছের গুঁড়ি অতিক্রম করতে হয়। এর মধ্যে কয়েকটি গুঁড়ি পানির এক থেকে দুই ফুট নিচে। পানির নিচে হওয়ায় গুঁড়িগুলো নৌযানের চালকরা সব সময় দেখতে পান না। এ কারণে গুঁড়িগুলোর সঙ্গে ধাক্কা লেগে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে এবং ডুবোচরে আটকে গিয়েও সমস্যা পড়তে হয় জনসাধারণের।

এছাড়া কাপ্তাই হ্রদের ফোরেরমুখ, মীনা বাজার, মধুমাছড়া, কাট্টলী বিলসহ একাধিক স্থানে গাছের গুঁড়ি ও ডুবোচর রয়েছে। এসব ডুবোচরের কারণে নৌযান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এদিকে ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে কোনো সতর্কচিহ্ন নেই।

স্থানীয়রা জানান, কাপ্তাই হ্রদে ড্রেজিং না হওয়া এবং বৃষ্টি কম হওয়ার কারণে পানি অস্বাভাবিকভাবে কমে গেছে। তাই গাছের গুঁড়ি ও ডুবোচর দেখা দিচ্ছে। ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগে চিহ্নিত করে দিলে নৌযানের চালক ও যাত্রীদের ভোগান্তি কমতো।

বাঘাইছড়ি হয়ে মাইনী এবং মাইনী থেকে লঞ্চ চলাচল বন্ধ হওয়ায় ছোট নৌযান গুলোতে গাদাগাদি করে উঠতে হচ্ছে তাঁদের। অনেকে এ সুযোগে বাড়তি ভাড়াও আদায় করছেন।

সচেতন নাগরিকদের দাবি, লংগদু থেকে মাত্র সতেরো কিলোমিটার স্থলপথ যোগে নানিয়ারচর উপজেলা হয়ে রাঙামাটি জেলা শহর এবং চট্টগ্রাম সহ দেশের বিভিন্ন স্থানের যাতায়াত সুগম হতো যদি সড়কের কাজ সম্পন্ন হয়। তাহলে নৌপথে ভোগান্তি পোহাতে হতো না। এই সড়ক পথ চালু করার জন্য স্থানীয় প্রশাসন ও সরকারের কাছে দাবি তারা।

লংগদু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আকিব ওসমান বলেন, চালকদের সচেতনতার সাথে নৌকা, বোট চালাতে হবে যেন কোনো ধরনের দূর্ঘটনা না ঘটে। গাছের গুঁড়ি ও ডুবোচরে আটকে দূর্ঘটনা না ঘটার জন্য ব্যবস্থা নেয়া হবে। অন্যদিকে লংগদু-নানিয়ারচর সড়ক ব্যবস্থা নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলবো।

এ ক্যাটাগরির আরো নিউজ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এ ক্যাটাগরির আরো নিউজ...